অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর বনানীতে আয়োজিত এক দ্বিপক্ষীয় ব্যবসায়িক সেমিনারে দুই দেশের নীতিনির্ধারক ও ব্যবসায়ী নেতারা এই অভিমত ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা এই সম্পর্ককে বহুমুখী করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।
গতকাল শনিবার রাজধানীর বনানীতে হোটেল শেরাটনে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিএমসিসিআই) আয়োজিত ‘টুয়ার্ডস অ্যা স্ট্রংগার বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া পার্টনারশিপ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার বন্ধুত্ব ঐতিহাসিক এবং এ সম্পর্ক পারস্পরিক বিশ্বাসের ওপর প্রতিষ্ঠিত। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া সফর দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও সহযোগিতাকে নতুন উচ্চতায় উন্নীত করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়ার অংশীদারদের সঙ্গে সফলভাবে কাজ করে আসছেন। দুই দেশের মধ্যকার অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও জোরদার করার তাগিদ দিয়ে তিনি মালয়েশিয়া সরকারের প্রতি বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন মানসম্মত পণ্য আমদানি বাড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, উভয় দেশের ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ের সক্রিয় অংশগ্রহণে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিধি আরও সম্প্রসারিত হবে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার শুহুদা ওথম্যান দুই দেশের মধ্যকার চমৎকার কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া সফর দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে কৌশলগত অংশীদারত্বে রূপান্তর করতে একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনে মালয়েশিয়া সবসময় বাংলাদেশের পাশে থাকবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) অ্যাডমিনিস্ট্রেটর মো. ফজলুল হক। তিনি দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যকার সহযোগিতা আরও বাড়ানো এবং যৌথ বিনিয়োগের সুযোগগুলো কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে পণ্য আমদানি করলেও সে তুলনায় রপ্তানির পরিমাণ কিছুটা সীমিত। এই ধরনের দ্বিপক্ষীয় সভা ও আলোচনা বাংলাদেশের পণ্যের জন্য মালয়েশিয়ার বাজারে প্রবেশাধিকার সহজ করতে এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। দুই দেশের সরকারের উচ্চপর্যায়ের এই যোগাযোগ এবং ব্যবসায়িক ফোরামের উদ্যোগ ভবিষ্যতে দুদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।