আন্তর্জাতিক ডেস্ক
নেপালে সংঘটিত ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৭৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ১ হাজার ৪৭৩ জন এবং এখনও পর্যন্ত ১ হাজার ৯২৪ জন ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছেন, যার মধ্যে ৫১৭ জন বিদেশি নাগরিক। পাহাড়ি ঢলের কবলে পড়ে দেশটির যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এনডিআরআরএমএ) প্রকাশিত সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে এই হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করা হয়েছে। গত বুধবার সকালে হ্রিষী ও ভোতে কোশী নদী অববাহিকায় হঠাৎ নেমে আসা এই প্রলয়ংকরী বন্যায় উত্তর নেপালের রাসুয়া ও নুওয়াকোট জেলাসহ বিভিন্ন এলাকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাহাড়ি ঢলের তোড়ে বেশ কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেল এবং নদীর তীরবর্তী জনপদ প্লাবিত হওয়ায় হতাহতের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ জানায়, নিখোঁজদের তালিকায় বিপুলসংখ্যক মানুষের নাম যুক্ত হওয়ার পেছনে বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত শ্রমিক ও প্রকৌশলীদের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি বড় ভূমিকা রেখেছে। এছাড়া নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজদের তালিকায় ৫ শতাধিক বিদেশি নাগরিক থাকায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে বহু সংখ্যক ভারতীয় ও অন্যান্য দেশের পর্যটক ও তীর্থযাত্রী রয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে রাসুয়া জেলার প্রধান সড়ক যোগাযোগ ও অবকাঠামো ভেঙে পড়েছে। দুর্গম পাহাড়ি পথ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় উদ্ধারকর্মীদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে মারাত্মক বেগ পেতে হচ্ছে। নেপালি সেনাবাহিনী, পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত উদ্ধারকারী দলগুলো দুর্গত এলাকায় আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার এবং নিখোঁজদের সন্ধানে যৌথ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। তবে অনেক এলাকা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন থাকায় উদ্ধার কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দিয়েছে।
দুর্যোগ মোকাবিলা সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, দুর্গত দূরবর্তী অঞ্চলগুলো থেকে সঠিক তথ্য এবং যোগাযোগ পুরোপুরি পুনর্বহাল হলে হতাহত ও নিখোঁজের প্রকৃত সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোতে বিশুদ্ধ পানির সংকট এবং খাদ্য ঘাটতি দেখা দেওয়ায় মানবিক সহায়তা কার্যক্রম জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।