চট্টগ্রাম — জেলা প্রতিনিধি
চট্টগ্রামে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে কেন্দ্রে যাওয়ার পথে ক্রেনচাপায় শিক্ষার্থী নাফিসা নাওয়াল (১৯) নিহতের ঘটনায় অভিযুক্ত ক্রেনচালক শামীম বিশ্বাসকে (৩১) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (২৩ আগস্ট) রাতে নগরীর ইপিজেড থানাধীন ফ্রি পোর্ট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ইপিজেড থানা পুলিশ সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
এর আগে গত শনিবার (২২ আগস্ট) সকালে পরীক্ষার কেন্দ্রে যাওয়ার পথে ইপিজেড থানাধীন নেভি হাসপাতাল গেটের সামনে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত নাফিসা নগরীর সিএমপি স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছিলেন। প্রতিদিনের মতো সেদিন সকালে তিনি বাসা থেকে রাইড শেয়ারিংয়ের ‘পাঠাও’ মোটরসাইকেলযোগে হাজী মোহাম্মদ মহসীন কলেজ কেন্দ্রের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন সকাল পৌনে ৯টার দিকে নাফিসাকে বহনকারী মোটরসাইকেলটি বন্দরটিলা নেভি হাসপাতাল গেট এলাকায় পৌঁছায়। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি প্যাডালচালিত ভ্যানকে সাইড দিতে গিয়ে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে মোটরসাইকেল থেকে রাস্তায় ছিটকে পড়েন নাফিসা। ঠিক সেই মুহূর্তে একই লেনে পেছনে থাকা ‘ম্যাক্স’ কোম্পানির একটি দ্রুতগতির ক্রেন বেপরোয়াভাবে এসে তাকে চাপা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন ও চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এক ইন্টার্ন চিকিৎসক তাকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এই অনভিপ্রেত সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থীর বাবা মো. মামুন বাদী হয়ে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ৯৮ ও ১০৫ ধারায় ইপিজেড থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় চালকের বেপরোয়া গতি ও দায়িত্বহীনতাকে দায়ী করা হয়েছে।
ইপিজেড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আতিকুর রহমান জানান, ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্ত চালককে শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে অভিযান চালিয়ে ফ্রি পোর্ট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামiniকে বিধি অনুযায়ী আদালতে সোপর্দ করার আইনি প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।
এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি চট্টগ্রামসহ পুরো দেশে পরীক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জনবহুল নগরীগুলোতে ভারী ও নির্মাণকাজে ব্যবহৃত ক্রেনের মতো ভারী যান চলাচলের ক্ষেত্রে ট্রাফিক আইন ও গতিসীমা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিক ও অভিভাবকরা। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রায়ই ভারী যানবাহনের বেপরোয়া চলাচলের কারণে এমন প্রাণহানির ঘটনা ঘটে থাকে, যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়ে আসছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে চালকদের সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আইনের কঠোর প্রয়োগ ও ট্রাফিক নজরদারি জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।