বাংলাদেশ ডেস্ক
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও সহযোগিতা আরও জোরদার এবং বিস্তৃত করার লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানীর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর অফিসকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক অংশীদারিত্ব এবং স্থানীয় সরকার ও উন্নয়ন খাতের বিভিন্ন সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করা হয়। এ সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে পানি ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং কৃষি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান কাজে লাগানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এসব খাতে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও যৌথ সহযোগিতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হলে বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়ন কার্যক্রম আরও অধিক কার্যকর এবং টেকসই রূপ লাভ করবে।
বৈঠকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে নানামুখী কার্যক্রম পরিচালনা করছে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী ও জনবান্ধব করে তুলতে বিভিন্ন সংস্কারমূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে নগর ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ সুরক্ষার ক্ষেত্রে কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
সাক্ষাতের শুরুতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন মন্ত্রীকে তাঁর নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য শুভেচ্ছা জানান। তিনি সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বহুমুখী কার্যক্রমের ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং এ খাতে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব ভবিষ্যতে অব্যাহত রাখার দৃঢ় আগ্রহ প্রকাশ করেন।
বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সরকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিবেচনা করছে এবং এ খাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে। এই সম্পর্কের পরিধি স্থানীয় সরকার খাতে সম্প্রসারিত হলে তা দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে বলে উভয় পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করে।
বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় সরকার ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন খাতে মার্কিন প্রযুক্তি এবং কারিগরি সহায়তা যুক্ত হলে গ্রামীণ ও জনপদভিত্তিক উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। বিশেষ করে আধুনিক পানি ব্যবস্থাপনা ও বর্জ্য ব্যবস্থার মতো জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশগত বিষয়গুলোতে এই সহযোগিতা দীর্ঘমেয়াদী সুফল বয়ে আনতে পারে।
উক্ত বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব রফিকুল ই মোহামেদ এবং মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন স্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের এই আলোচনার ফলে আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উন্নয়ন অংশীদারিত্ব আরও গভীর ও ফলপ্রসূ হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল আশা প্রকাশ করছে।