আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুদ্ধবিরতির চুক্তি বলবৎ থাকার মধ্যেও গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় চার বছর বয়সী এক শিশুসহ দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত সাতজন গুরুতর আহত হয়েছেন। গাজা থেকে ড্রোন, ঘুড়ি ও বেলুন পাঠানোর অভিযোগ তুলে ওই অঞ্চলে সামরিক আগ্রাসন আরও তীব্র করার হুমকি দিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।
রোববার (২৩ আগস্ট) গাজার জাওয়াইদা শহরের একটি আবাসিক ভবন এবং নিকটবর্তী নুসেইরাত শরণার্থীশিবিরে এই বিমান হামলা চালানো হয়। হামলায় উড়ন্ত ধ্বংসাবশেষের আঘাতে চার বছরের শিশু মোহাম্মদ আবদেল-সালাম তহা গুরুতর আহত হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, বেসামরিক হতাহতের এই ঘটনাটি তারা খতিয়ে দেখছে। এর আগে দেইর আল-বালাহ শহরে হামাসের এক জ্যেষ্ঠ নেতাকে হত্যার দাবি করে ইসরায়েলি বাহিনী।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, গাজা থেকে ড্রোন, ঘুড়ি ও বেলুন পাঠানো অবিলম্বে বন্ধ করা না হলে সেখানে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার বেসামরিক নাগরিকদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে। তবে এই অভিযোগ কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন হামাস নেতা বাসেম নাইম। তিনি দাবি করেন, গাজার শিশুরা মূলত চরম দুর্বিষহ পরিস্থিতিতে ধ্বংসস্তূপের মাঝেই খেলার ছলে ঘুড়ি ওড়াচ্ছে, যা কোনো সামরিক হুমকি নয়।
এদিকে চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তি সত্ত্বেও ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত হামলায় গাজায় নতুন করে ১২০০-র বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর ফলে পুরো অঞ্চলটিতে মানবিক সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। আন্তর্জাতিক মহলের যুদ্ধবিরতির আহ্বান সত্ত্বেও দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তির সম্ভাবনা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে, পৃথক আরেকটি ঘটনায় অধিকৃত পশ্চিম তীরে এক ইসরায়েলি নাগরিককে ছুরিকাঘাতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিচালিত তল্লাশি ও দমন অভিযানে ১৪ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি কিশোরকে গুলি করে হত্যা করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। পশ্চিম তীরের এই সহিংসতার ফলে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো গাজা ও পশ্চিম তীরে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষায় অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।