সারাদেশ ডেস্ক
সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার সুনাই নদীতে স্থানীয়দের আপত্তির মুখে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ আয়োজন নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতা নিরসন হয়েছে। প্রশাসনের মধ্যস্থতায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও আয়োজকদের আলোচনার মাধ্যমে উদ্ভূত পরিস্থিতির অবসান ঘটে। এর ফলে আগামী ২৮ আগস্ট পূর্বনির্ধারিত তারিখেই গ্রামীণ ঐতিহ্যের এই নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।
রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা মজুমদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, উপজেলার লাউতা ইউনিয়নের লাউতা ও বাহাদুরপুর যুবসমাজের উদ্যোগে প্রতিবছরের মতো এবারও সুনাই নদীতে বার্ষিক নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। আগামী ২৮ আগস্ট এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নদীপাড়ের ভাঙন এবং ফসলি জমির ক্ষতির আশঙ্কার কথা তুলে ধরে স্থানীয়দের একটি অংশ এর বিরোধিতা করে। ‘তৌহিদী জনতা লাউতা ইউনিয়ন’-এর ব্যানারে একটি পক্ষ গত বৃহস্পতিবার বারিগ্রাম বাজার মসজিদে বৈঠক করে নৌকাবাইচ বন্ধের দাবি জানায়। এর পরই বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পক্ষে-বিপক্ষে নানা আলোচনা ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় কৃষকদের একাংশের অভিযোগ ছিল, নৌকাবাইচের সময় নদীর উভয় তীরে অতিরিক্ত লোকসমাগম এবং নৌকার গতি ও ঢেউয়ের কারণে নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। এছাড়া নদীর তীরের রোপণকৃত ধানের চারা ও অন্যান্য কৃষিপণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
অন্যদিকে, আয়োজক কমিটি এবং স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, গ্রামীণ সংস্কৃতি ও পূর্বপুরুষদের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য বাঁচিয়ে রাখতে এই নৌকাবাইচ নিয়মিত আয়োজন করা হয়। একটি মহল ভুল তথ্য ছড়িয়ে কৃষকদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন আয়োজকরা।
পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠার পর বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে। উদ্ভূত উত্তেজনা এড়াতে প্রশাসনের একটি বিশেষ দল লাউতা ইউনিয়ন পরিদর্শন করে। পরে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলওয়ার হোসেনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, আয়োজক কমিটি এবং আপত্তি জানানো স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে একটি যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উভয়পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটানো হয় এবং নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে নৌকাবাইচ আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়।
লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলওয়ার হোসেন জানান, নদীপাড়ের ভাঙন ও ফসলি জমি নিয়ে স্থানীয়দের কিছু বাস্তবসম্মত উদ্বেগ ছিল, যা আলোচনার মাধ্যমে সুরাহা করা হয়েছে। প্রশাসনের সহযোগিতায় আয়োজক কমিটি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সমঝোতার ফলে এখন আর কোনো বাধা নেই।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাবিবা মজুমদার জানান, নৌকাবাইচ একটি ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ খেলা। স্থানীয়দের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনার মাধ্যমে ভুল বোঝাবুঝির অবসান হয়েছে। নির্ধারিত ২৮ আগস্ট শান্তিপূর্ণভাবে এবং উৎসবমুখর পরিবেশে নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হবে। এ বিষয়ে আয়োজক কমিটিকে সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।