আন্তর্জাতিক ডেস্ক
জাপানে ৫ দশমিক ৯ মাত্রার একটি মাঝারি ধরনের ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে দেশটির রাজধানী টোকিওসহ বিভিন্ন অঞ্চলে অন্তত ২৩ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় রবিবার ভোরে ঘুমন্ত মানুষের মাঝে হঠাৎ এই ভূকম্পন অনুভূত হলে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দেশটির আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পের ফলে কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি।
আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় ইবারাকি জেলার ভূপৃষ্ঠ থেকে ৭০ কিলোমিটার গভীরে। কম্পন সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয় রাজধানী টোকিও, ইবারাকি, সাইতামা, কানাগাওয়া এবং চিবা অঞ্চলে। আকস্মিক এই ভূকম্পনে সাইতামা ও কানাগাওয়া জেলায় ৯ জন করে মোট ১৮ জন, চিবায় ৪ জন এবং ইবারাকিতে ১ জন আহত হন। আহতদের অধিকাংশই গভীর রাতে বা ভোরের দিকে ঘুমানোর সময় কম্পন শুরু হলে বিছানা থেকে পড়ে গিয়ে কিংবা ঘরের দরজা ও আসবাবপত্রের আঘাতে জখম হন। এর মধ্যে কানাগাওয়া জেলার ইয়োকোহামা শহরে ৮০ বছর বয়সী এক প্রবীণ নারী বিছানা থেকে পড়ে গিয়ে কোমরে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন।
ভূমিকম্পের তীব্রতার কারণে রাজধানী টোকিও এবং এর আশপাশের অঞ্চলের সঙ্গে অন্যান্য এলাকার রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়। পাশাপাশি রাজধানীর বেশ কিছু এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তবে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত তৎপর হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত রেল নেটওয়ার্ক ও বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইন মেরামতের কাজ শুরু করেছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, সার্বিক ক্ষয়ক্ষতি পর্যালোচনা ও উদ্ধার কার্যক্রম তদারকি করতে ইতিমধ্যে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে জাপান বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ হিসেবে পরিচিত। প্রশান্ত মহাসাগরের ‘রিং অব ফায়ার’ বা আগ্নেয় মেখলার ওপর দেশটির অবস্থান হওয়ায় এখানে প্রায় নিয়মিতই ছোট-বড় ভূমিকম্প ঘটে থাকে। বৈশ্বিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতি বছর সংঘটিত মোট ভূমিকম্পের প্রায় ১৭ শতাংশই জাপানে অনুভূত হয়। এই ভূতাত্ত্বিক বাস্তবতার কারণে দেশটির অবকাঠামো অত্যন্ত ভূমিকম্পসহিষ্ণু করে নির্মাণ করা হলেও, আকস্মিক ভূকম্পন প্রায়শই সাধারণ মানুষের জনজীবন ও যাতায়াত ব্যবস্থায় সাময়িক বিঘ্ন ঘটিয়ে থাকে।