অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ ও রুপার মূল্যবৃদ্ধির জেরে দেশের বাজারে মূল্যবান এই দুটি ধাতুর দাম পুনরায় বাড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪৬ হাজার ১১০ টাকা। গত ২২ আগস্ট সকালে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে এই মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা দেওয়া হয় এবং সেদিন সকাল ১০টা থেকেই নতুন এই দর কার্যকর হয়েছে।
বাজুসের নির্ধারিত নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২১ ক্যারেটের স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৩৫ হাজার ৩০ টাকায়। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম রাখা হয়েছে ২ লাখ ১ হাজার ৮৪৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৮১২ টাকা। বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত সারা দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই মূল্যতালিকা কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের নির্দিষ্ট ডিজাইন ভেদে এর সঙ্গে মজুরি যুক্ত হবে। স্বর্ণালঙ্কার বিক্রির ক্ষেত্রে ভ্যাট অলঙ্কারের সঙ্গেই অন্তর্ভুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদা করে কোনো ভ্যাট আদায় করা যাবে না। অন্যদিকে, সুনির্দিষ্ট ভ্যাট, মজুরি ও পাথর বাদ দিয়ে পুরনো অলঙ্কার এক্সচেঞ্জ বা পারচেজের ক্ষেত্রে বাজুসের আগের নিয়মই বলবৎ থাকবে।
এর আগে গত ২০ আগস্ট সকালে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সে সময় ভরিতে ৩ হাজার ৮৪৯ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৪০ হাজার ৬২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে আবারও দাম বাড়ানোর ফলে দেশের বাজারে মূল্যবান এই ধাতুর দাম আরও ঊর্ধ্বমুখী হলো। তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলতি বছর জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে মোট ১০৬ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছে। এর মধ্যে ৫৪ দফা দাম বাড়ানো হয়েছে, ৫১ দফা কমানো হয়েছে এবং ১ দফা শুধু ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। এর আগের বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৬৪ বার দাম বাড়ানো এবং ২৯ বার কমানো হয়েছিল।
স্বর্ণের পাশাপাশি দেশের বাজারে বাড়ানো হয়েছে রুপার দামও। নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, বর্তমানে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৪৫৮ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৫ হাজার ২৪৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৪৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ৩ হাজার ৩৮৩ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত মোট ৬৪ বার রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ৩৪ দফা দাম বাড়ানো এবং ৩০ দফা কমানো হয়েছে। এর বিপরীতে, ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ১৩ বার রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যেখানে ১০ বার দাম বৃদ্ধি এবং ৩ বার হ্রাস পেয়েছিল।
বাজুস সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজার ও স্থানীয় বুলিয়ন মার্কেটে তেজাবি স্বর্ণের দামের ওঠানামার ওপর ভিত্তি করেই দেশের বাজারে এই মূল্য নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মুদ্রাস্ফীতি এবং বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের অস্থিরতার কারণে বহুমুখী চাপে রয়েছে মূল্যবান ধাতুর বাজার। এই ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধির ফলে সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে সোনার অলঙ্কার ক্রয়। এর ফলে দেশের জুয়েলারি ব্যবসায় সামগ্রিক লেনদেনে এক ধরনের স্থবিরতা দেখা দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। তবে বাজারের এই গতিপ্রকৃতি আগামী দিনে আন্তর্জাতিক অর্থনীতির ধারার ওপর পুরোপুরি নির্ভর করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।