আইন ও আদালত ডেস্ক
বিএনপি নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য এম ইলিয়াস আলী গুমের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিমান বাহিনীর উইং কমান্ডার সাইফুর রহমান সাইফকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকরের অংশ হিসেবে তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয় এবং রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে এই মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
এর আগে গত ৯ আগস্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ সাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইলিয়াস আলী গুমের ঘটনার সঙ্গে উইং কমান্ডার সাইফুর রহমানের সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। তবে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে এবং ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ অনুযায়ী এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য উদঘাটনের জন্য তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল রাজধানী ঢাকার বনানী এলাকা থেকে নিখোঁজ হন তৎকালীন বিরোধীদলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য এম ইলিয়াস আলী। ওই একই রাতে তার সঙ্গে নিখোঁজ হন তার ব্যক্তিগত গাড়িচালক আনসার আলীও। দীর্ঘ প্রায় চৌদ্দ বছর পেরিয়ে গেলেও ইলিয়াস আলী ও আনসার আলীর কোনো সন্ধান বা খোঁজ পাওয়া যায়নি। তাদের এই রহস্যজনক নিখোঁজের পর থেকে বিভিন্ন সময়ে নানা আলোচনা, রাজনৈতিক দাবি ও বিভিন্ন পর্যায়ে তদন্তের কথা সামনে এলেও তাদের প্রকৃত অবস্থান বা পরিণতি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।
দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ থাকার এই আলোচিত ঘটনাটি পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক এখতিয়ার ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তদন্তের আওতায় অন্তর্ভুক্ত হয়। ট্রাইব্যুনালের তদন্তে অভিযুক্ত কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতার তথ্য উঠে আসার পর তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। ট্রাইব্যুনালে তার হাজির করার মধ্য দিয়ে বহুল আলোচিত এই গুমের মামলার বিচারিক কার্যক্রমে একটি নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ ধাপের সূচনা হলো।
আইন বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই মামলার বিচার কার্যক্রম এগিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের চাঞ্চল্যকর এই গুমের ঘটনার নেপথ্য সত্য উদঘাটিত হতে পারে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটি একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে। তদন্ত শেষ হলে রাষ্ট্রপক্ষ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করবে বলে আশা করা হচ্ছে।