স্বাস্থ্য ডেস্ক
ফরিদপুরের সমরিতা জেনারেল হাসপাতালে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের সময় প্রসূতির পেটে সার্জিক্যাল গজ রেখে সেলাই করার অভিযোগে মৃত্যুর ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও হাসপাতালের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকালে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামে নিহত প্রসূতি কনিকা মণ্ডলের (৩৫) বাড়িতে গিয়ে তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী এই কথা জানান। এ সময় তিনি নিহত কনিকার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। পাশাপাশি মাতৃহারা শিশুটির পূর্ণ ভরণপোষণের দায়িত্ব সরকার বহন করবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ২৯ জুন অসুস্থ অবস্থায় ফরিদপুর শহরের ঝিলটুনির সমরিতা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন বালিয়াকান্দি উপজেলার বাঘুটিয়া গ্রামের অশান্ত মণ্ডলের স্ত্রী কনিকা মণ্ডল। সেখানে চিকিৎসক লক্ষ্মী রানী দত্তের তত্ত্বাবধানে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিনি একটি কন্যাসন্তান জন্ম দেন। অস্ত্রোপচারের পরদিন থেকেই প্রসূতির পেট ফুলে যাওয়া এবং তীব্র ব্যথার সৃষ্টি হয়। স্বজনরা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে অবহিত করলেও তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে অবস্থার অবনতি হলে গত ৩ জুলাই তাঁকে ঢাকার কল্যাণপুরের ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষার পর ৭ জুলাই তাঁর পেটে সার্জিক্যাল গজ থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে এবং অস্ত্রোপচার করে সেটি অপসারণ করা হয়। দীর্ঘ চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ১৯ আগস্ট দিবাগত রাত সোয়া দুইটার দিকে ওই হাসপাতালেই মারা যান কনিকা মণ্ডল।
এ ঘটনায় রাজবাড়ীর সিভিল সার্জনকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাসুদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শামসুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তারিফ উল হাসান এবং বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
নিহত প্রসূতির বাড়িতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছরে স্বাস্থ্যসেবা খাতে যে গভীর অব্যবস্থাপনা তৈরি হয়েছে, তা দুই-এক মাসের মধ্যে পুরোপুরি দূর করা সম্ভব নয়। এই দীর্ঘ সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে অপরিকল্পিতভাবে অসংখ্য হাসপাতাল ও ক্লিনিক গড়ে উঠেছে, যা বর্তমানে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এসব সমস্যা ধীরে ধীরে এবং সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে।
স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ ও কিডনি রোগীদের চিকিৎসাব্য প্রসঙ্গে মন্ত্রী আরও জানান, দেশের প্রতিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডায়ালাইসিসের জন্য ৫০টি এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ১০টি করে শয্যাবিশিষ্ট কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করা হবে। এসব কেন্দ্র চালুর অংশ হিসেবে এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। চিকিৎসা ক্ষেত্রে অবহেলা ও এ ধরনের চিকিৎসাব্রত পরিপন্থী ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কঠোর মনিটরিং বজায় রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।