তথ্য প্রযুক্তি ডেস্ক
সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা ব্যক্তিদের রাজনৈতিক বা ধর্মীয় পরিচয়ে নয়, বরং তাদের কর্মের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করার আহ্বান জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী। তিনি বলেন, সমাজে যারা অর্থবহ অবদান রেখে গেছেন, তাদের কীর্তিকে দলমত নির্বিশেষে স্মরণ করতে হবে। মানুষের সামাজিক অবদানকে যথাযথ স্বীকৃতি দিলে নতুন প্রজন্ম দেশের কল্যাণে আরও বেশি অনুপ্রাণিত হবে।
গত শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ওসমান জামাল মিলনায়তনে ‘শতবর্ষের সফল ব্যক্তি স্মারক সম্মাননা প্রকাশনা ও সংবর্ধনা ২০২৬’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ছায়ানীড় নামক সংগঠনের উদ্যোগে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, নতুন প্রজন্মের মাঝে দেশপ্রেম ও সামাজিক দায়বদ্ধতা জাগিয়ে তুলতে অতীতের গুণীজনদের অবদান তুলে ধরা অপরিহার্য। সমসাময়িক সময়ে তরুণসমাজ অনেক ক্ষেত্রেই স্থানীয় ইতিহাস এবং পূর্বসূরিদের আত্মত্যাগ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নয়। টাঙ্গাইলের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, নবী হাসান চৌধুরী, আবদুল হামিদ খান, প্রসাদ সাহা, ইব্রাহিম সাহা এবং আবু সাদ চৌধুরীর মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অতীতে সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে গেছেন। অথচ বর্তমান প্রজন্মের অনেকের কাছেই তাদের এই অবদান অজানা রয়ে গেছে। তরুণদের বইমুখী করে তোলার পাশাপাশি তাদের এই সমৃদ্ধ ইতিহাস জানানোর ওপর তিনি বিশেষ জোর দেন।
গুণীজনদের স্মৃতি সংরক্ষণ ও প্রকাশনার প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। শতবর্ষের সফল ব্যক্তিদের নিয়ে প্রকাশিত স্মারক গ্রন্থটি আরও ব্যাপক পরিসরে প্রচারের প্রয়োজন রয়েছে। দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও লাইব্রেরিতে এই বই পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি।
দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিক উদ্যোগের ভূমিকার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ওয়ালটনের মতো বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখছে। একইভাবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্প-সাহিত্য এবং সমাজসেবামূলক খাতে যারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও অবকাঠামো গড়ে তুলেছেন, তাদের অবদান প্রজন্মের পর প্রজন্ম স্মরণ রাখা উচিত। বিশেষ করে ১৯৪৭ সালের আগের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তৎকালীন জমিদার ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের নিজস্ব উদ্যোগে বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং জনকল্যাণমুখী স্থাপনা গড়ে উঠেছিল। এসব জনহিতৈষী কাজকে কোনো ধরনের সংকীর্ণ রাজনৈতিক বা ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে না দেখে কেবল সামাজিক অবদানের মাপকাঠিতে মূল্যায়ন করা উচিত।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান মতিন, আবুল কাশেম চৌধুরী এবং ছায়ানীড়ের সভাপতি ড. ইউসুফ খানসহ বিভিন্ন স্তরের আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ। আয়োজকদের পক্ষ থেকে বক্তারা বলেন, গুণীজনদের সম্মান জানানোর এই সংস্কৃতি ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখা হবে, যাতে তা সমাজ গঠনে দীর্ঘমেয়াদী ভূমিকা রাখতে পারে।