বাংলাদেশ ডেস্ক
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, একই সময়ে সারাদেশে নতুন করে ৮৭৬ জন হামের উপসর্গে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে নিশ্চিত হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৬৪ জন।
গত ১৫ মার্চ থেকে ২১ আগস্ট পর্যন্ত দেশজুড়ে হামের পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, এই সময়ে মোট ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৯১ জন হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হাম হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ১৮ হাজার ২০৮ জন। একই সময়সীমায় হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ২৮ হাজার ৮২৫ জন রোগী। তবে চিকিৎসাসেবা নিয়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ৫৫৮ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ২১ আগস্ট পর্যন্ত হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে দেশে মোট ৮২৯ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৯৯ জন শিশু। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে নতুন করে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতা বৃদ্ধি এবং সচেতনতা তৈরি করা না গেলে এই সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা প্রধানত শিশুদের বেশি আক্রান্ত করে। সঠিক সময়ে টিকা না নেওয়া এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার অভাবের কারণে এর বিস্তার দ্রুত ঘটে। বিশেষ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিশুদের পূর্ণাঙ্গ টিকাদান নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যে, শিশুদের শরীরে হামের লক্ষণ দেখা মাত্রই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
জনস্বাস্থ্যবিদদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠ পর্যায়ে টিকাদান কর্মসূচি আরও জোরদার করা প্রয়োজন। স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে সচেতনতামূলক প্রচারণা বাড়ানো এবং দুর্গম ও জনবহুল এলাকায় বিশেষ নজর দেওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এই রোগের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়।