স্বাস্থ্য ডেস্ক
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামের প্রসূতি কণিকা মন্ডলকে ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর অভিযোগে তার পরিবারকে সান্ত্বনা ও সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। শুক্রবার সকালে প্রসূতির বাড়িতে গিয়ে তার স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মন্ত্রী। এ সময় চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা বা ভুল প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন মাস আগে বাঘুটিয়া গ্রামের প্রশান্ত মন্ডলের স্ত্রী কণিকা মন্ডল (৩৫) সন্তান প্রসবের জন্য ফরিদপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতাল ‘শমরিতা হাসপাতাল’-এ ভর্তি হন। সেখানে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান প্রসবের পর থেকেই তার পেটে তীব্র ব্যথা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজধানী ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা তার পেটের ভেতরে গজজাতীয় সামগ্রী রয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পরবর্তীতে আরেকটি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সেটি অপসারণ করা হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার রাতে ওই প্রসূতির মৃত্যু হয়। ঘটনার রাতেই মৃত্যুর খবর পেয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালে ছুটে যান এবং চিকিৎসাধীন ও মৃত্যুর মুহূর্তের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেন।
শুক্রবার সকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন সরাসরি রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বাঘুটিয়া গ্রামে ভুক্তভোগী প্রসূতির বাড়িতে উপস্থিত হন। সেখানে তিনি শোকাহত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। এ সময় তিনি সরকারের পক্ষ থেকে পরিবারটিকে যথাসম্ভব সহায়তার ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা কিংবা ভুল চিকিৎসার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী যথাযথ ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্য খাতের বিদ্যমান সমস্যাগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে তা সমাধানের জন্য বর্তমান সরকার কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ সময় মন্ত্রীর সঙ্গে রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাসুদ এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তারিফ উল হাসানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসকদের অবহেলা এবং ভুল চিকিৎসার কারণে রোগী মৃত্যুর ঘটনা প্রায়ই গণমাধ্যমে উঠে আসে। চিকিৎসা সেবায় এ ধরনের মারাত্মক অনিয়ম ও জবাবদিহির অভাব রোধে কঠোর মনিটরিং এবং নজরদারির দাবি দীর্ঘদিনের। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সরাসরি এই হস্তক্ষেপে স্থানীয় পর্যায়ে সচেতন মহলে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী এখন সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষী চিকিৎসকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং অবহেলিত স্বাস্থ্য খাতের দীর্ঘমেয়াদী সংস্কার প্রত্যাশা করছেন।