আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান সংঘাতের ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। এর প্রভাবে টানা দ্বিতীয় সপ্তাহের মতো বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। হরমুজ প্রণালি ঘিরে সৃষ্ট জটিলতা এবং উভয় পক্ষের মধ্যকার চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে জ্বালানি তেলের এই দরবৃদ্ধি আন্তর্জাতিক বাজারকে নতুন করে শঙ্কায় ফেলেছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে আন্তর্জাতিক তেল বাজারের বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সামান্য পরিবর্তিত হয়ে প্রতি ব্যারেল ৯৩ ডলারের উপরে অবস্থান করছে। অন্যদিকে মার্কিন বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দামও গত সপ্তাহের শেষ নাগাদ ৮৬ ডলারের কাছাকাছি রয়েছে। গত পাঁচ কার্যদিবসের হিসাবে ব্রেন্ট ক্রুডের মূল্যে ৭ শতাংশেরও বেশি এবং ডব্লিউটিআই ক্রুডের দর প্রায় ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগে উভয় বেঞ্চমার্কে দুই শতাংশের বেশি মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছিল, যা গত ২৪ জুলাইয়ের পর জ্বালানি পণ্যটির বাজার দরকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গেছে।
চলতি বছরের শুরুর দিক থেকেই মধ্যপ্রাচ্য সংকট বিশ্ব অর্থনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলে আসছে। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম প্রধান সামুদ্রিক জ্বালানি রুট বা কৌশলগত চোকপয়েন্ট হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হওয়ায় বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। দুই মাসের যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর থাকার পর সম্প্রতি এর মেয়াদ শেষ হওয়া এবং নতুন কোনো দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ায় বাজারে নতুন করে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রশাসন ইরানের অর্থনীতির ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নেওয়ায় জ্বালানি খাতের এই অস্থিরতা আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।
জ্বালানি তেল সরবরাহের এই সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে। প্রণালি দিয়ে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হওয়ায় শুধু তেলের উৎপাদন বা সরবরাহ নয়, বরং এর শোধন ও মজুত পরিস্থিতির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এর আগে মার্চ মাসে সংঘাতের শুরুর দিকে তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণে বেড়ে গিয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সামরিক ও রাজনৈতিক অচলাবস্থা দ্রুত নিরসন না হলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে, যা বৈশ্বিক উষ্ণতা বা মূল্যস্ফীতির চাপকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।