বাংলাদেশ ডেস্ক
সুযোগ পেলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আওয়ামী লীগের চেয়েও বড় ফ্যাসিস্ট রূপ ধারণ করবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। কুষ্টিয়ায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের হামলায় আহত গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের চিকিৎসার খোঁজখবর নিতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের দেখতে যান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। সেখানে তিনি আহত নেতাকর্মীদের চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন। পরে হাসপাতালের চত্বরে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি দেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সাম্প্রতিক সহিংসতার বিষয়ে নিজ দলের অবস্থান তুলে ধরেন।
নুরুল হক নুর বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার সময় সুযোগ পেয়ে ফ্যাসিস্ট আচরণ করেছে। জামায়াত ও তাদের ছাত্রসংগঠন অতীতে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহারের সে ধরনের সুযোগ না পেলেও তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অসহিষ্ণুতা ও আধিপত্যকামী মনোভাব প্রকাশ পাচ্ছে।
রাজনৈতিক ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক গণ-অভ্যুত্থানের পর প্রত্যাশা ছিল যে, অতীতের কর্তৃত্ববাদী শাসনামলে নির্যাতিত হওয়া সব পক্ষ মিলেমিশে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলবে। কিন্তু অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হলো, ক্ষমতার প্রত্যাশায় কিছু পক্ষ অতি দ্রুত সেই ঐক্য বিনষ্টের পথে হাঁটছে। তিনি অভিযোগ করেন, মাঠপর্যায়ে শক্তি প্রদর্শন করতে গিয়ে বিরোধীদের ওপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে এবং বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার কার্যক্রমেও বিভিন্ন ধরনের চাপ সৃষ্টির চেষ্টা চলছে।
কুষ্টিয়ার সাম্প্রতিক ঘটনার বিবরণ দিয়ে তিনি জানান, কুষ্টিয়ায় রাজনৈতিক বিরোধের জের ধরে গণঅধিকার পরিষদের স্থানীয় নেতাকর্মীদের ওপর গুরুতর হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক মহাদিসের পায়ে গুরুতর আঘাত করে পঙ্গু করার চেষ্টা করা হয়েছে এবং সভাপতি সোহানুর রহমান সোহানকে বেসবল ব্যাট দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে। সোহানের নাকের হাড় ভেঙে যাওয়ায় তার অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে বলেও তিনি সাংবাদিকদের অবহিত করেন।
নুরুল হক নুর আরও দাবি করেন, কোনো কোনো রাজনৈতিক দল অতীতে নির্যাতিত হওয়ার পরিচয় ব্যবহার করে বর্তমানে মাঠপর্যায়ে দখলদারি ও আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছে। তিনি অভিযোগ তোলেন, বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান, করপোরেট সংস্থা এবং ব্যাংক দখলের তৎপরতা চালানো হচ্ছে, যা দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি স্বরূপ।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ইতিহাসের যেকোনো মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ড এবং গণহত্যার বিচার ও রাজনৈতিক দায়মুক্তিহীনতার প্রশ্নে দেশজুড়ে ঐকমত্য থাকা প্রয়োজন। তিনি জানান, দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং সহিংস রাজনৈতিক সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি রোধ করতে তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবেন।
সবশেষে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার এই সন্ধিক্ষণে সব রাজনৈতিক পক্ষকে উগ্রতা পরিহার করে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে সম্মান জানাতে হবে। তিনি দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিরপেক্ষভাবে প্রতিটি সহিংসতার তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।