বিনোদন ডেস্ক
জনপ্রিয় ব্যান্ডতারকা নগরবাউল জেমসের সম্প্রতি ইতালির রোমে অনুষ্ঠিত একটি কনসার্টকে কেন্দ্র করে আর্থিক লেনদেন এবং হোটেল কক্ষ ব্যবহারের বিষয়ে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে নানা বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষিতে পুরো ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়েছেন শিল্পীর মুখপাত্র ও ব্যবস্থাপক রুবাইয়াত ঠাকুর রবিন। তিনি জানান, সামগ্রিক বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে এবং আইনি ও পেশাদার নিয়ম মেনেই সমস্ত কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।
গত ১৬ আগস্ট রোমে একটি কনসার্টে অংশ নিতে সফরসঙ্গীসহ পৌঁছান নগরবাউল জেমস। সেখানে তাঁরা স্থানীয় একটি অ্যাপার্টমেন্ট হোটেলে অবস্থান করেন। পরবর্তীতে হোটেল কক্ষের পরিচ্ছন্নতা এবং ত্যাগের প্রক্রিয়া নিয়ে আয়োজক পক্ষ ও হোটেল কর্তৃপক্ষের মধ্যকার বার্তার কিছু অংশ সামনে আসে। সেখানে কক্ষের ভেতরে ব্যবহার্য সামগ্রী ও উচ্ছিষ্ট পড়ে থাকা এবং অতিরিক্ত পরিচ্ছন্নতা ফি হিসেবে ২০০ ইউরো দাবি করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।
এ প্রসঙ্গে জেমসের প্রতিনিধি স্পষ্ট করেন যে, রোমের ওই হোটেলে তাঁদের দলের জন্য মোট চারটি পৃথক কক্ষ বরাদ্দ ছিল। জেমস যে কক্ষে অবস্থান করেছিলেন, সেটি অভিযোগ সংশ্লিষ্ট কক্ষ ছিল না। সংশ্লিষ্ট কক্ষটিতে দলের একজন যন্ত্রশিল্পী অবস্থান করছিলেন। ফলে একক কোনো ব্যক্তির কক্ষের ব্যবস্থাপনার দায় সামগ্রিকভাবে মূল শিল্পীর ওপর চাপানো অযৌক্তিক ও অনাকাঙ্ক্ষিত।
হোটেল কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া বা নিয়ম বহির্ভূতভাবে স্থান ত্যাগের অভিযোগও নাকচ করে দেওয়া হয়েছে। মুখপাত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি পূর্ণাঙ্গ সঙ্গীত দল এবং বিপুল পরিমাণ বাদ্যযন্ত্র নিয়ে স্বাভাবিক নিয়ম মেনেই দিনের আলোতে তাঁরা পরবর্তী গন্তব্য ভেনিসের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। কোনো ধরনের গোপনীয়তা বা আইন অমান্য করার ঘটনা এখানে ঘটেনি।
অন্যদিকে, কনসার্টের অগ্রিম অর্থ ও টিকিট বিক্রির অর্থ সংক্রান্ত যে জটিলতার কথা স্থানীয় আয়োজক পক্ষ থেকে তোলা হয়েছে, সে বিষয়েও প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থান তুলে ধরা হয়। জানানো হয়, আন্তর্জাতিক যে কোনো কনসার্টের মতোই এই আয়োজনের ক্ষেত্রেও দুই পক্ষের মধ্যে সুস্পষ্ট লিখিত চুক্তি রয়েছে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী পেশাদার দায়িত্ব পালন করা হয়েছে। আর্থিক কিংবা ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত কোনো চুক্তিভঙ্গ হলে সে বিষয়ে স্থানীয় আইনি কাঠামোর অধীনে পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে কোনো প্রকার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ছাড়া ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলা দেশের শিল্পাঙ্গন ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ইতিবাচক ভাবমূর্তির জন্য সহায়ক নয় বলে সংশ্লিষ্টরা মত প্রকাশ করেছেন।