শিক্ষা ডেস্ক
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে (ঢাবি) বিশেষ মর্যাদা প্রদানসহ উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও বৃহৎ অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে আগামী জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্ভাব্য সমাবর্তনে অংশগ্রহণের জন্য উপাচার্যের দেওয়া আমন্ত্রণও গ্রহণ করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের এক সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বৈঠকের বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়েছে। বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য, সাদা দলের আহ্বায়ক এবং মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎকালে উপাচার্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, চলমান বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রস্তুতকৃত ‘২০ বছর মেয়াদি একাডেমিক ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান’ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে বিস্তারিতভাবে অবহিত করেন। এছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিমান বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে পরিচালিত যৌথ শিক্ষা কার্যক্রম, প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণা, ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া পার্টনারশিপ জোরদারকরণ, আন্তর্জাতিক অ্যালামনাই নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করা এবং শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক কল্যাণে সাম্প্রতিক সময়ে গৃহীত বিভিন্ন প্রশাসনিক ও অ্যাকাডেমিক পদক্ষেপ তুলে ধরেন।
বৈঠকে উপাচার্য ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রতিটি গণতান্ত্রিক ও জাতীয় জাগরণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। এসব গৌরবময় ভূমিকার আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি হিসেবে দেশের প্রাচীনতম ও শীর্ষস্থানীয় এই বিদ্যাপীঠের জন্য একটি ‘বিশেষ মর্যাদা’ নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ও নীতিগত সমর্থন কামনা করেন তিনি।
একই সঙ্গে উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন ও প্রায়োগিক জ্ঞান বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য গবেষণা বরাদ্দ বৃদ্ধি, দেশীয় ও বহুজাতিক শিল্পপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের জন্য ইন্টার্নশিপের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবটিকস, জীববিজ্ঞান ও আধুনিক জীবপ্রযুক্তির মতো যুগোপযোগী বিষয়গুলোতে উন্নত ল্যাব ও আধুনিক শিক্ষা কারিকুলাম প্রণয়নে সরকারের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা চান উপাচার্য। এছাড়া শিক্ষার্থীদের মাঝে সৃজনশীলতা, প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে নিয়মিত সহশিক্ষামূলক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
উপাচার্যের উপস্থাপিত প্রস্তাবনা ও সার্বিক বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশেষ মর্যাদা প্রদান এবং এর বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়নে সরকারের পূর্ণ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন। প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক উচ্চশিক্ষা পরিমণ্ডলে ও আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি মর্যাদাপূর্ণ ও সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে যেতে শিক্ষক, গবেষক, শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও তহবিলের পরিধি বাড়াতে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের নেটওয়ার্ক ও অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সহযোগিতা সমন্বিত করার দিকনির্দেশনা প্রদান করেন তিনি।
সাক্ষাৎ শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি, শিক্ষা ও সামগ্রিক উন্নয়ন কার্যক্রমে সরকারের আন্তরিক সহযোগিতার আশ্বাসের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আনুষ্ঠানিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ প্রকাশ করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।