আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্য টানা চতুর্থ দিনের মতো বৃদ্ধি পেয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় বুধবার বিশ্ববাজারে তেলের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়।
বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের ভবিষ্যৎ সরবরাহ মূল্য ব্যারেলপ্রতি ২৬ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ২৯ শতাংশ বেড়ে ৯১ দশমিক ২৮ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩৭ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৪৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৫ দশমিক ৩১ ডলারে। এর আগে গত ২৪ জুলাইয়ের পর মঙ্গলবার অপরিশোধিত তেলের দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল, যা বুধবার আরও বৃদ্ধি পায়।
জ্বালানি বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার কূটনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে আসা এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ে দুই দেশের পরস্পরবিরোধী অবস্থানের কারণে বাজারে সরবরাহ ঘাটতির উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্বের মোট সমুদ্রবাহিত অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই অঞ্চলে যে কোনো ধরনের সামরিক বা রাজনৈতিক অস্থিরতা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাণিজ্যে সরাসরি প্রভাব ফেলে।
মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার পাশাপাশি ওপেক প্লাসভুক্ত (ওপেক ও তার মিত্র দেশগুলো) দেশগুলোর উৎপাদন হ্রাসের নীতিও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রভাব ফেলছে। প্রধান তেল রপ্তানিকারক দেশগুলো বৈশ্বিক বাজারে ভারসাম্য বজায় রাখতে চলতি বছরের শুরু থেকেই অপরিশোধিত তেল উত্তোলন সীমিত রাখার নীতিতে অটল রয়েছে। সরবরাহ সীমাবদ্ধতার মধ্যে নতুন করে মধ্যপ্রাচ্য সংকট তেলের বাজারকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, জ্বালানি তেলের এই ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধি বৈশ্বিক অর্থনীতির পুনরুদ্ধারের গতিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। তেলের দাম বাড়লে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পায়, যা সরাসরি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উৎপাদন ও বিপণন খরচে প্রভাব ফেলে। এর ফলে বিভিন্ন দেশে নতুন করে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর মুদ্রানীতি শিথিল করার পরিকল্পনাকে বিলম্বিত করবে।
আমদানিনির্ভর উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যেসব দেশ বৈদেশিক মুদ্রার সংকটে রয়েছে, তাদের আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বাড়তি চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাজার অংশীদাররা এখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থাগুলোর পূর্বাভাসের দিকে নজর রাখছেন।