নিজস্ব প্রতিবেদক
নাটোর, গাইবান্ধা ও রংপুরের জেলা প্রশাসককে (ডিসি) নিজ নিজ কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে অবিলম্বে এই আদেশ কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নাটোরের জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন, গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা এবং রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিনকে মাঠপর্যায়ের প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। জনস্বার্থে জারিকৃত এই আদেশে জানানো হয়, তাদের পরবর্তী পদায়নের লক্ষ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে ন্যস্ত করা হয়েছে।
মাঠ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলোতে দায়িত্ব পালনকালে প্রশাসনিক গতিশীলতা আনয়ন এবং রুটিন পরিবর্তনের অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। প্রজ্ঞাপনে কর্মকর্তাদের দ্রুততম সময়ে বর্তমান কর্মস্থল ত্যাগ করে মন্ত্রণালয়ে যোগদানের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট জেলাসমূহে নতুন কর্মকর্তা পদায়ন না হওয়া পর্যন্ত বিধি অনুযায়ী দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণের কথা বলা হয়েছে।
সাধারণত জেলা প্রশাসক বা ডিসিরা মাঠপর্যায়ে সরকারের নির্বাহী প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। জেলা পর্যায়ে সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন, রাজস্ব আদায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং বিভিন্ন সরকারি বিভাগের মধ্যে সমন্বয় সাধনের মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে তারা কাজ করেন। ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে বদলি বা প্রত্যাহার মাঠ প্রশাসনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার একটি অংশ।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন শাখা সূত্রে জানা গেছে, প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস ও কাজের গতি বৃদ্ধির লক্ষ্যে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন জেলায় কর্মকর্তাদের দায়িত্বের রদবদল করা হয়ে থাকে। প্রত্যাহারকৃত কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে মেধা ও দক্ষতার ভিত্তিতে পরবর্তীতে উপযুক্ত পদে পদায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে, নাটোর, গাইবান্ধা ও রংপুর—এই তিন গুরুত্বপূর্ণ জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে কারা দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন, সে বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পর্যালোচনা চালাচ্ছে। শিগগিরই পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নতুন জেলা প্রশাসকদের পদায়ন চূড়ান্ত করা হবে বলে প্রশাসনিক সূত্রে আভাস পাওয়া গেছে। নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগ চূড়ান্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত স্থানীয় পর্যায়ে দাপ্তরিক কার্যক্রমে যেন কোনো স্থবিরতা না আসে, সেজন্য প্রয়োজনীয় অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।