সিলেট — জেলা প্রতিনিধি
সিলেট অঞ্চলের কৃষির অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে পতিত ও এক ফসলি জমিকে আবাদে আনা, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষিপণ্যের উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, কৃষিজমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে কৃষকের আয় বৃদ্ধি ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করাই বর্তমান বাস্তবতায় অন্যতম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।
শনিবার সিলেট নগরীর হোটেল মেট্রোর সম্মেলন কক্ষে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ‘আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সিলেট অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতায় ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরে জেলা পর্যায়ে বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বিগত বছরের বাস্তবায়ন মূল্যায়ন শীর্ষক এই জেলা কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, ভৌগোলিক অবস্থান ও প্রাকৃতিক কারণে সিলেট অঞ্চলে এখনও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমি পতিত এবং এক ফসলি হিসেবে রয়ে গেছে। বিশেষ করে হাওর ও নিম্নাঞ্চলে বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে পানি জমে থাকার কারণে জমিগুলো দীর্ঘ সময় অনাবাদি থাকে। কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে এসব জমি পুনরায় আবাদের আওতায় আনা সম্ভব। একইভাবে শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধার সম্প্রসারণ করা গেলে এক ফসলি জমিকে দুই ফসলি এবং দুই ফসলি জমিকে তিন ফসলি জমিতে রূপান্তর করা সহজ হবে। এ ক্ষেত্রে জলাবদ্ধতা দূরীকরণ ও শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানির সংস্থান নিশ্চিতে স্থানীয় খাল খনন কর্মসূচি কার্যকর সমাধান হতে পারে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
সিলেট অঞ্চলে নতুন ও অপ্রচলিত কৃষিপণ্যের সম্ভাবনার বিষয়টি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, স্থানীয় কৃষকরা আগাম তরমুজ আবাদ করে ইতোমধ্যে সাফল্য পেয়েছেন এবং জাতীয় বাজারে বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন। একই ধারাবাহিকতায় মৌলভীবাজার ও শ্রীমঙ্গলসহ শীতপ্রবণ এলাকাগুলোতে পুষ্টিকর বিট চাষের সম্ভাবনা যাচাইয়ের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। বিট স্বল্প সময়ে উৎপাদনযোগ্য হওয়ায় একই জমিতে বহুমুখী ফসল চাষের সুযোগ তৈরি হয়। এ ধরনের সম্ভাবনাময় ফসলের বাণিজ্যিক বিস্তার ঘটাতে দ্রুত পাইলট প্রকল্প গ্রহণের পরামর্শ দেন তিনি।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আরও বলেন, শিল্প ও অবকাঠামো খাতের অগ্রগতির পাশাপাশি বাংলাদেশের গ্রামীণ জনপদের সিংহভাগ মানুষের জীবিকা এখনও কৃষির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। প্রতিটি খণ্ড কৃষিজমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে জাতীয় পর্যায়ে সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তা আরও সুসংহত হবে। দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে ধান ও চালসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য ভবিষ্যতে টেকসইভাবে রফতানি করার সক্ষমতা অর্জন করা সম্ভব। এ লক্ষ্যে সিলেট বিভাগের কৃষি ও প্রাণিসম্পদের উন্নয়ন, এলাকাভিত্তিক পরিকল্পনা প্রণয়ন, আধুনিক প্রশিক্ষণ এবং নিরবচ্ছিন্ন উপকরণ সরবরাহ নিশ্চিত করতে আগামী সপ্তাহে কৃষি সচিব ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ নীতি–নির্ধারকদের নিয়ে সিলেটে বিশেষ কর্মসূচি আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
কর্মশালায় বক্তারা নতুন ও বৈচিত্র্যময় ফসল চাষে কৃষকদের এগিয়ে আসার প্রশংসা করেন এবং ঝুঁকি নেওয়া চাষিদের সব ধরনের নীতি সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানান।
সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মশিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় আরও বক্তব্য দেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মোশাররফ হোসেন, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, সিলেট রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ভাইস চেয়ারম্যান বদরুজ্জামান সেলিম, সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী এবং প্রকল্প পরিচালক রাকিব উদ্দিন। এ ছাড়া সিলেট বিভাগের কৃষি কর্মকর্তা, স্থানীয় চাষি ও সংশ্লিষ্ট খাতের অংশীজনরা কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন।