খেলাধূলা ডেস্ক
বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনোকে তার পদ থেকে অপসারণের যেকোনো উদ্যোগের তীব্র সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থার জন্য এক মারাত্মক ও বিপর্যয়কর ভুল হিসেবে প্রমাণিত হবে।
সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বিবৃতির মাধ্যমে এই অবস্থান স্পষ্ট করেন। বর্তমান বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও ক্রীড়া অঙ্গনে ফিফা সভাপতির পদ নিয়ে চলা গুঞ্জন ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের মধ্যেই ট্রাম্পের এই মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
ফিফা সভাপতির নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করে ট্রাম্প তাকে একজন ‘চমৎকার’ সংগঠক হিসেবে অভিহিত করেন। তার দাবি, জিয়ানি ইনফান্তিনোর দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং বলিষ্ঠ পদক্ষেপের ফলেই ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এবং সফল ফুটবল বিশ্বকাপের আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, বর্তমান সভাপতির অনুপস্থিতিতে ফিফা কখনোই তাদের বর্তমানের এই আর্থিক সাফল্য এবং বৈশ্বিক জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছাতে পারবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, ফিফার অভ্যন্তরীণ নীতি নির্ধারণ এবং বাণিজ্যিক সম্প্রসারণের পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন মহলের মধ্যে মতপার্থক্য চলে আসছে। বিশেষ করে, সম্প্রতি বিশ্বকাপ ফুটবলের মালিকানার একটি অংশ বেসরকারি ইকুইটি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এই পরিকল্পনাটি শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ পর্যবসিত হয়, যা ফিফার শীর্ষ নেতৃত্বে তীব্র অভ্যন্তরীণ চাপের সৃষ্টি করে।
এই বিতর্কিত অর্থনৈতিক পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে সোমবার ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা (উয়েফা), উত্তর ও মধ্য আমেরিকা ফুটবল সংস্থা (কনকাকাফ) এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি)—এই তিনটি প্রধান আঞ্চলিক ফুটবল সংস্থা যৌথভাবে ফিফা বরাবর একটি কঠোর ভাষায় লিখিত খোলা চিঠি পাঠায়। ওই চিঠিতে এই বাণিজ্যিক পরিকল্পনাকে ফিফার মৌলিক নীতি ও সুশাসনের প্রতি ‘আস্থার চরম বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে অভিহিত করা হয়। চিঠিতে আরও বলা হয়, যখন ব্যক্তিগত স্বার্থ বা ক্ষমতার মোহ প্রাতিষ্ঠানিক নৈতিকতাকে ছাড়িয়ে যায়, তখন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তির পক্ষে নৈতিকভাবে পদে বহাল থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ে।
এদিকে, আঞ্চলিক এই সংস্থাগুলোর তীব্র আপত্তির মুখে ফিফা কর্তৃপক্ষ গত সপ্তাহে মরক্কোয় একটি জরুরি বৈঠকে মিলিত হয়। বৈঠক শেষে ফিফার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিকভাবে সেই বিতর্কিত প্রস্তাবটি বাতিল বলে ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে সংস্থার শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি পূর্ণ আস্থা ও সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
ফিফার পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সংগঠনের সততা, স্বচ্ছতা এবং ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার যেকোনো ধরনের অপচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে। বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির সুনাম রক্ষার্থে ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিতে সংস্থাটি পিছপা হবে না বলেও কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে এই সংঘাতের ফল আগামী দিনে ফিফার কাঠামোগত সংস্কার এবং বাণিজ্যিক অংশীদারত্বে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।