বাংলাদেশ ডেস্ক
দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় পর প্রতিযোগিতামূলক ভোটের মাধ্যমে দেশের ত্রয়েবিংশ (২৩তম) রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তিত হওয়ার পর ১৯৯১ সালে সর্বশেষ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে এলেও বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ভোটগ্রহণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট ত্রয়েবিংশ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী সাধারণ ভোটাররা সরাসরি এই নির্বাচনে অংশ নেন না; জাতীয় সংসদের সম্মানিত সদস্যরা গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিয়ে দেশের রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচন করেন। বর্তমান সংসদের মোট সদস্যসংখ্যা ৩৫০ জন হলেও আইনি ও অন্যান্য কারণে ভোটার সংখ্যা কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে।
১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন। সে সময় তার প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদরুল হায়দার চৌধুরী পেয়েছিলেন ৯২ ভোট। ওই নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ভোট বর্জন করেছিল এবং জামায়াতে ইসলামীসহ কয়েকটি দলের সংসদ সদস্যরা ভোটদান থেকে বিরত ছিলেন। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন মেয়াদে রাষ্ট্রপতি পদে একাধিক প্রার্থী না থাকায় বা সমঝোতার কারণে সবাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।
বর্তমান রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়ায় একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন জমা দেওয়ায় ভোটের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে দলের পক্ষ থেকে প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলোর সমন্বয়ে গঠিত ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্য থেকে কর্নেল (অব.) অলি আহমেদকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রার্থীরা মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ ও জমাদান সম্পন্ন করেছেন, যা পরবর্তীতে যাচাই-বাছাই ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের নির্দিষ্ট ধাপ পেরিয়ে চূড়ান্ত রূপ নেবে।
সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংসদের সদস্যদের পরোক্ষ ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। বর্তমান জাতীয় সংসদে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আসন বিন্যাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফলাফলে সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা একটি বড় প্রভাব বিস্তার করবে। সংসদীয় গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতায় দীর্ঘ সময় পর এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।