অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
দেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগের পরিবেশ আরও সহজ ও গতিশীল করার লক্ষ্যে অর্থ, বাণিজ্য, আইন এবং পরিবেশমন্ত্রীসহ মোট ২২ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের ‘বিনিয়ন্ত্রণ ও ব্যবসা সহজীকরণ-বিষয়ক জাতীয় টাস্কফোর্স’ গঠন করেছে সরকার। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কমিটি বিষয়ক অধিশাখা থেকে এই সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান দীর্ঘসূত্রিতা ও জটিলতা নিরসনের উদ্দেশ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, নবগঠিত এই জাতীয় টাস্কফোর্সের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। টাস্কফোর্সের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। এ ছাড়া টাস্কফোর্সের সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (সামষ্টিক ও টিডিএম)।
টাস্কফোর্সের অন্যান্য সদস্যদের তালিকায় রয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী তানভীর শাহরিয়ার গনি, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।
এ ছাড়াও প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে কমিটিতে রাখা হয়েছে অর্থ বিভাগের সচিব, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সচিব এবং যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদফতরের (আরজেএসসি) রেজিস্ট্রারকে। বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ ও অংশীজনদের মতামতের গুরুত্ব বিবেচনায় দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়িক ও শিল্প সংগঠনের প্রধানদেরও এই টাস্কফোর্সে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি, ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফআইসিসিআই) সভাপতি, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি, মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সভাপতি, বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফেকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি এবং বাংলাদেশ নিটওয়ার ম্যানুফেকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি।
প্রজ্ঞাপনে এই জাতীয় টাস্কফোর্সের সুনির্দিষ্ট কার্যপরিধি নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এর মূল কাজের মধ্যে রয়েছে বিনিয়ন্ত্রণ ও ব্যবসা সহজীকরণ-সংক্রান্ত খাতভিত্তিক সংস্কারের রূপরেখা অনুমোদন এবং এর বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনা করা। পাশাপাশি লাইসেন্স, বিভিন্ন অনুমোদন, ছাড়পত্র, কর, শুল্ক, ব্যাংকিং, পুঁজিবাজার, নির্মাণ, পরিবেশ ও স্থানীয় সেবামূলক খাতের কার্যক্রমে অপ্রয়োজনীয় ধাপ বা জটিলতা চিহ্নিত করে তা দূর করার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করবে এই টাস্কফোর্স।
এছাড়া ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে ‘সিঙ্গেল উইন্ডো’ পদ্ধতি চালু, সার্ভিস লেভেল এগ্রিমেন্ট (এসএলএ) বাস্তবায়ন, চাহিদাভিত্তিক বা স্বয়ংক্রিয় অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং অনলাইন ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালুর ক্ষেত্রে নীতিগত দিকনির্দেশনা দেবে নবগঠিত এই পর্ষদ। বিভিন্ন সরকারি মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মধ্যকার আন্তঃমন্ত্রণালয় ও আন্তঃসংস্থাগত জটিলতা দ্রুত নিষ্পত্তি করতেও এই টাস্কফোর্স কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। পাশাপাশি ব্যবসার প্রতিবন্ধকতা দূর করতে বিদ্যমান আইন, বিধি, নীতিমালা, সার্কুলার এবং প্রশাসনিক আদেশসমূহ সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা চিহ্নিত করার দায়িত্বও অর্পিত হয়েছে এই টাস্কফোর্সের ওপর।
অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়িক খাতের সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে জটিল প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, একাধিক দপ্তরে ছাড়পত্র প্রাপ্তির দীর্ঘসূত্রিতা এবং নিয়মতান্ত্রিক ঝামেলার কারণে দেশের ব্যবসা ও বিনিয়োগের পরিবেশ আশানুরূপ গতি পাচ্ছিল না। সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত ও প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নের মাধ্যমে গঠিত এই জাতীয় টাস্কফোর্স কার্যকর ভূমিকা রাখলে দেশের সামগ্রিক বিনিয়োগ চিত্র পাল্টে যাবে এবং একটি ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ গড়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।