অপরাধ ডেস্ক
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে বিচারক ও প্রসিকিউশন টিম মহাখালীতে অবস্থিত প্রতিরক্ষা গোমহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই) সদর দপ্তরের জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টার (জেআইসি) পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। শনিবার (৮ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে এই উচ্চ পর্যায়ের পরিদর্শন কার্যক্রম শুরু হয়।
পরিদর্শন দলে ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যানের সঙ্গে অন্য দুই সদস্য—বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী উপস্থিত রয়েছেন। এছাড়া প্রসিকিউশন টিমের পক্ষে চিফ প্রসিকিউটর মো আইমিনুল ইসলাম, প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ, শাইখ মাহদী এবং তাসমিরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এই দলের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। ট্রাইব্যুনালের আদেশের প্রেক্ষিতে বিচারিক প্রক্রিয়ার স্বার্থে আসামিপক্ষের আইনজীবীদেরও এই পরিদর্শনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ১ আগস্ট রাজধানী ঢাকার উত্তরায় র্যাব-১ সদর দপ্তরে অবস্থিত টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেল বা ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শন করেছিলেন ট্রাইব্যুনালটির বিচারক ও প্রসিকিউটররা। সে সময় তারা ওই সেলের ছোট-বড় প্রায় ২৯টি কক্ষ এবং বন্দিদের আটকে রাখার জন্য ব্যবহৃত সাতটি ডেথ সেল সশরীরে ঘুরে দেখেন। ওই পরিদর্শনের সময় বন্দিদের ওপর বিভিন্ন ধরনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের তথাকথিত চিত্র এবং পরিবেশ সম্পর্কে তারা ধারণা লাভ করেছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও বিগত সরকারের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গুমের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলাগুলোর বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার অংশ হিসেবে এই পরিদর্শনগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও প্রসিকিউটররা সরাসরি এসব গোপন আটককেন্দ্র বা ইন্টারোগেশন সেল পরিদর্শন করে অপরাধের ধরন, বন্দিশালার বাস্তব অবস্থা এবং এর সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছেন। এসব পরিদর্শনের মাধ্যমে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতা ও প্রমাণাদি ট্রাইব্যুনালে চলমান মামলাগুলোর বিচারে সাক্ষ্যপ্রমাণ হিসেবে বিশেষ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন আইনি বিশেষজ্ঞরা। বিচার প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক করতে এই ধরনের সরেজমিন পরিদর্শন বিচারিক কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।