স্বাস্থ্য ডেস্ক
দেশে ডেঙ্গুর পাশাপাশি বর্তমানে হাম রোগের প্রাদুর্ভাব অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হাম উপসর্গে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আরও এক হাজার ১২১৮ জন এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে প্রেরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ছিল এক হাজার ১৭ জন। এর মধ্যে নিশ্চিত হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা পাওয়া গেছে ২০১ জন।
চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে ৭ আগস্ট পর্যন্ত হাম পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, এই দীর্ঘ সময়ে সারাদেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৩৪ হাজার ৬৫৫ জন। এর মধ্যে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৬ হাজার ৯৪১ জন। বিগত প্রায় পাঁচ মাসে সন্দেহজনক হাম নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট এক লাখ ১৬ হাজার ৮২২ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তবে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন এক লাখ ১২ হাজার ৫২৫ জন রোগী।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে তিনজনের মৃত্যু হলেও নিশ্চিত হামে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তবে গত ১৫ মার্চ থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত সময়কালে সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়ে মোট ৭৬৭ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, একই সময়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ৯৬ জনে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা বিশেষ করে শিশু বয়সে মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। অসচেতনতা এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসা গ্রহণ না করার কারণে রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। রোগটি প্রতিরোধের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ে শিশুদের হাম-রুবেলা (এমআর) টিকা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি কোনো শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া এবং আক্রান্ত শিশুকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অন্যদের সংস্পর্শ থেকে বিচ্ছিন্ন রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।