রাজধানী ডেস্ক
রাজধানীর বনানী এলাকায় নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের সাতজনকে আটক করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে বনানীর আর্মি স্টেডিয়ামের বিপরীত পাশ থেকে তাদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মশাল, ব্যানার ও ফেস মাস্ক উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টা ২০ মিনিটের দিকে বনানী থানা-পুলিশের একটি বিশেষ দল গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানতে পারে যে, সৈনিক ক্লাব থেকে আর্মি স্টেডিয়ামের দিকে যাওয়ার পথে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বহির্গমন লেনে প্রায় একশ থেকে একশ কুড়ি জনের একটি দল মশাল নিয়ে মিছিল করার উদ্দেশ্যে জড়ো হয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অভিযান পরিচালনা করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মিছিলের সঙ্গে থাকা মূল দলটির অধিকাংশ সদস্য কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও পুলিশ সাতজনকে আটক করতে সমর্থ হয়।
আটককৃত ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন প্রাপ্তবয়স্ক এবং চারজন অপ্রাপ্তবয়স্ক বা আইনের সংঘাতে জড়িত শিশু। প্রাপ্তবয়স্ক অভিযুক্তরা হলেন মো. আরিফ (১৯), মো. শাকিল আহমেদ (১৯) এবং আশিক আহমেদ মোস্তফা (১৯)। বাকি চার শিশুর নাম-পরিচয় আইনি প্রক্রিয়ার স্বার্থে প্রকাশ করা হয়নি।
অভিযানকালে ঘটনাস্থল তল্লাশি করে পুলিশ ৭০টি মশাল, একটি রাজনৈতিক বা প্রতিবাদী ব্যানার এবং ৭৭টি ফেস মাস্ক জব্দ করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রাথমিক ধারণা, রাজধানীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই মশাল মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে এ ধরনের অননুমোদিত ও ঝটিকা কর্মসূচি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর অপচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আটককৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানে অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়া অন্য অভিযুক্তদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের গোয়েন্দা ও মাঠ পর্যায়ের দলগুলো কাজ করছে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন দলের ঝটিকা মিছিল ও আকস্মিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। নগরীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো ধরনের নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা প্রতিহত করতে পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রাজধানীজুড়ে টহল জোরদার করেছে এবং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়ে দিয়েছে।