আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাত খুব দ্রুতই সমাপ্তির পথে পৌঁছাবে। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেছেন যে, দীর্ঘস্থায়ী এই যুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনীর কিছু নির্দিষ্ট অত্যাধুনিক অস্ত্রের মজুত ও সরবরাহের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় তাঁর মনে হচ্ছে এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হবে না এবং ইরানের পক্ষে দীর্ঘ সময় ধরে এই সামরিক সক্ষমতা ধরে রাখা সম্ভব নয়। তবে অস্ত্রভাণ্ডারের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি জানান, মার্কিন সামরিক বাহিনীর কাছে কিছু নির্দিষ্ট ধরনের অত্যন্ত শক্তিশালী গোলাবারুদ ও অস্ত্রের সরবরাহ কার্যত সীমাহীন হলেও, কিছু ক্ষেত্রে মজুত তুলনামূলকভাবে সীমিত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে উচ্চ-নির্ভুলতার অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্রের ক্ষেত্রে এই টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এর আগে গত মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের একটি বিশেষ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইরানের সঙ্গে প্রায় পাঁচ মাস ধরে চলা এই সংঘাতে মার্কিন সেনাবাহিনী তাদের বৈশ্বিক কৌশলগত মজুতে থাকা দূরপাল্লার উচ্চ-নির্ভুলতা সম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্রের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ইতিমধ্যে ব্যবহার করে ফেলেছে। এর ফলে বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি এবং জরুরি সামরিক সক্ষমতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে সরবরাহের ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রতিরক্ষা মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
অস্ত্রের এই ঘাটতি ও সরবরাহের চাপ মোকাবিলায় মার্কিন প্রশাসন ও প্রতিরক্ষা শিল্প খাত নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানান ট্রাম্প। তিনি জানান, দেশের প্রতিরক্ষা উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে নতুন কারখানা নির্মাণ করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র এবং টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের মতো কৌশলগত ও গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র তৈরির নতুন উৎপাদন স্থাপনাগুলোর কাজ এগিয়ে চলছে, যা অচিরেই উৎপাদনে যাবে এবং ঘাটতি পুষিয়ে নিতে সহায়তা করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই দীর্ঘায়িত সামরিক অভিযানের ফলে বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতির পাশাপাশি পরাশক্তিগুলোর সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন ও সরবরাহের দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি এবং সাপ্লাই চেইনের ওপর গভীর প্রভাব পড়ছে। ট্রাম্পের এই মন্তব্য মার্কিন সামরিক কৌশলের পাশাপাশি অস্ত্রশিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির তাগিদ ও বর্তমান বাস্তবতারই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করা হচ্ছে।