বিশেষ প্রতিবেদক
আগামী ১৪৪৮ হিজরি (২০২৬-২৭) ওমরাহ মৌসুমের জন্য দেশের অনুমোদিত ১২৮টি ওমরাহ এজেন্সির তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। এ সকল নিবন্ধিত এজেন্সির অনুকূলে নির্ধারিত বেশ কিছু আবশ্যিক শর্তও আরোপ করা হয়েছে। উক্ত তালিকার ওপর ভিত্তি করে কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের সকল অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকের নিকট প্রয়োজনীয় সার্কুলার জারি করেছে।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ-১ থেকে ব্যাংকিং খাতের সকল প্রধান কার্যালয় ও প্রিন্সিপাল অফিসে পাঠানো এই সার্কুলারে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়। সার্কুলারে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব (ওমরাহ) স্বাক্ষরিত গত ২১ জুলাইয়ের স্মারক চিঠির উদ্ধৃতি প্রদান করে জানানো হয়, তালিকায় নাম থাকা ১২৮টি এজেন্সি সরকার নির্ধারিত শর্তাবলি কঠোরভাবে অনুসরণপূর্বক বাংলাদেশ থেকে ওমরাহযাত্রীদের সৌদি আরবে পাঠাতে পারবে।
প্রকাশিত নির্দেশনায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, সকল ওমরাহ এজেন্সিকে ‘জাতীয় হজ ও ওমরাহ নীতি’ এবং ‘হজ ও ওমরাহ ব্যবস্থাপনা বিধিমালা-২০২২ (সংশোধিত)’ পুরোপুরি অনুসরণ করে সকল ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিবন্ধিত প্রতিটি এজেন্সির জন্য সর্বোচ্চ এক হাজার জন ওমরাহযাত্রী পাঠানোর কোটা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। সরকারের পূর্বানুমতি ছাড়া এই নির্ধারিত কোটার অতিরিক্ত যাত্রী পাঠানো হলে তা কঠোরভাবে অনিয়ম ও অসদাচরণ হিসেবে গণ্য করা হবে।
সংশ্লিষ্ট এজেন্সির দায়িত্ব ও আবশ্যকীয় শর্তাবলির বিষয়ে মন্ত্রণালয় জানায়, ওমরাহযাত্রীদের নির্ধারিত সময়ে সৌদি আরবে পাঠানো, চুক্তিকৃত সেবা সুনিশ্চিত করা এবং সফর শেষে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাদের স্বদেশে ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব পুরোপুরি এজেন্সির ওপর বর্তাবে। যাত্রী পাঠানোর আগেই নির্ধারিত ফরম-৬ অনুযায়ী যাত্রীদের যাবতীয় তথ্য ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং জেদ্দাস্থ বাংলাদেশ হজ অফিসে জমা প্রদান করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
আর্থিক ও সেবামূলক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি এজেন্সির জন্য পৃথক একটি নির্ধারিত ব্যাংক হিসাব চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যার তথ্য ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়কে অবহিত করতে হবে। এছাড়া যাত্রীদের সাথে লিখিত চুক্তি সম্পাদন, প্যাকেজের বিবরণ, প্রসেসিং ফি এবং অন্যান্য সেবার প্রকৃত ব্যয় স্পষ্টভাবে প্রকাশ করার বিধান রাখা হয়েছে। যাত্রীদের সাথে যেকোনো প্রকার বিরোধ বা অভিযোগ সৃষ্টি হলে তা দেশের প্রচলিত আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী নিষ্পত্তি করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
ওমরাহযাত্রীদের অবস্থান পর্যবেক্ষণ এবং তদারকি ব্যবস্থা জোরদার করতে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলতি ১৪৪৮ হিজরি মৌসুমে প্রেরিত সকল ওমরাহযাত্রীর গমন ও প্রত্যাবর্তনের বিশদ প্রতিবেদন পরিচালক, হজ অফিস, ঢাকা এবং ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ-৩ (ওমরাহ) শাখায় জমা দিতে হবে। কোনো যাত্রী নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে বাংলাদেশে ফিরে না এলে, উক্ত তারিখ থেকে পরবর্তী এক মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট যাত্রীর নাম, ঠিকানা, পাসপোর্ট নম্বর এবং অবস্থান করার সুস্পষ্ট কারণ লিখিতভাবে মন্ত্রণালয় ও জেদ্দাস্থ বাংলাদেশ হজ অফিসে জানাতে হবে।
নির্দেশনা ও নীতিমালায় উল্লিখিত শর্তাবলি লঙ্ঘন করলে অথবা কোনো এজেন্সির প্রদান করা তথ্য ভুল বা অসংগতিপূর্ণ প্রমাণিত হলে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান ছাড়াই তাৎক্ষণিকভাবে উক্ত এজেন্সির অনুমোদন বাতিলের আইনি অধিকার সংরক্ষণ করে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি পরবর্তী বছরগুলোতে তাদের নতুন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না করাসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।