বিশেষ প্রতিবেদক
বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎসহ সম্ভাবনাময় বিভিন্ন উদীয়মান খাতে সৌদি আরবের বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশে বর্তমানে বিদেশি বিনিয়োগের সর্বাত্মক অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরিচ্ছন্ন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ সমন্বিত ও ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় খাতে সৌদি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ উভয় দেশের জন্যই বাণিজ্যিক ও কৌশলগতভাবে লাভজনক হবে।
মঙ্গলবার রাজধানীর সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সৌদি আরবের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ওয়ালিদ এল-খেরেইজির নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে প্রধানমন্ত্রী এই আহ্বান জানান। বৈঠকে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় ও নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে উভয়পক্ষ পূর্ণ একমত প্রকাশ করে।
প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব গাজী শাহরিয়ার পামির বৈঠকের বিষয়ে সাংবাদিকদের অবহিত করেন। তিনি জানান, আলোচনার শুরুতে সৌদি উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের ইতিবাচক ও সুসংহত পরিবেশ তৈরি হওয়ার ভূয়সী প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তিনি বিদ্যমান সুসম্পর্ককে বহুমুখী অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বে রূপান্তর করতে সৌদি আরবের আন্তরিক আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতার পরিধি সম্প্রসারণের বিষয়টি প্রাধান্য পায়। সৌদি উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তাঁর দেশ বাংলাদেশের প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, সামুদ্রিক খাদ্য (সি-ফুড), ট্রপিক্যাল ফুড, কৃষিভিত্তিক শিল্প, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ বিভিন্ন উদীয়মান ও আধুনিক খাতে পুঁজি বিনিয়োগ করতে বিশেষভাবে আগ্রহী। এ ছাড়া সৌদি আরবের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অবকাঠামোগত অগ্রগতিতে বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকদের অবদানকে স্মরণ করে অত্যন্ত প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেন উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান নির্বাচিত হওয়ায় সৌদি সরকারের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিক অভিনন্দন জানান ইঞ্জিনিয়ার ওয়ালিদ এল-খেরেইজি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের এই অর্জন বৈশ্বিক কূটনীতিতে দেশের ভাবমূর্তি ও অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
সৌদি প্রতিনিধিদলের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার বিদ্যমান সুসম্পর্ক মূলত পারস্পরিক আস্থা, ধর্মীয় প্রীতি ও দীর্ঘদিনের প্রগাঢ় বন্ধুত্বের শক্ত ভিতের ওপর প্রতিষ্ঠিত। বর্তমান সরকার এই ঐতিহ্যবাহী সম্পর্ককে কেবল শ্রমবাজারকেন্দ্রিক সহযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে একটি কৌশলগত, বহুমাত্রিক ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বে রূপান্তর করতে গভীরভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিশেষ করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি ও পুঁজির সমন্বয় ঘটিয়ে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশ দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
সাক্ষাৎ পর্বের শেষভাগে সৌদি উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সৌদি আরব সফরের জন্য রিয়াদ সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান। প্রধানমন্ত্রী এই আমন্ত্রণের জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং দুই দেশের সুবিধাজনক সময়ে সৌদি আরব সফরের অভিপ্রায় প্রকাশ করেন।
উচ্চপর্যায়ের এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে সৌদি প্রতিনিধিদলে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপদেষ্টা লেফট্যানেন্ট জেনারেল সুলাইমান বিন আবদুল আজিজ আল-ইয়াহইয়া, কনস্যুলার বিষয়ক উপমন্ত্রী ড. মোহাম্মদ আল-শাম্মারি, মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী মুহান্নাদ বিন আহমেদ আল-ইসা, বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ বিন আবিয়াহ এবং পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে সংশ্লিষ্ট পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাবৃন্দ।
অপরদিকে বাংলাদেশের পক্ষে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।