সদর—জেলা প্রতিনিধি
নড়াইল সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামে শিশু জান্নাতুল মাওয়াকে ধর্ষণ ও শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে রবিউল সিকদার (৩০) নামের এক যুবককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা। মঙ্গলবার সকাল নয়টার দিকে উপজেলার দত্তপাড়া এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। আটক রবিউল সিকদার একই গ্রামের বাসিন্দা। নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে রামচন্দ্রপুর গ্রামে শিশু জান্নাতুল মাওয়াকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযোগের তীর ওঠে রবিউল সিকদারের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকেই তিনি এলাকা ছেড়ে পালিয়ে আত্মগোপনে ছিলেন। পরদিন মঙ্গলবার সকালে তাকে দত্তপাড়া এলাকায় দেখতে পেয়ে স্থানীয় জনতা তাকে আটক করে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর কাছে হস্তাত্তর করে।
এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করা হচ্ছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করা হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে পুলিশের পক্ষ থেকে যাবতীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল মামুন শিকদার এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নূর-ই-আলম সিদ্দিকীসহ জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উত্তাল হয়ে ওঠে এলাকা। শিশু জান্নাতুলকে ধর্ষণ ও হত্যার বিচার এবং অভিযুক্ত রবিউলের ফাঁসির দাবিতে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে প্রায় এক ঘণ্টা নড়াইল-মাইজপাড়া-মাগুরা সড়কে অবস্থান নেন ছাত্র-জনতা। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে নড়াইল পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন তারা।
একই দাবিতে নড়াইল-লোহাগড়া-ঢাকা মহাসড়কের সদর উপজেলার দত্তপাড়া এলাকায় বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত দীর্ঘ চার ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখেন ক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। এর ফলে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। পরবর্তীতে নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি ঘটনাটিকে একটি জঘন্য অপরাধ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং জড়িতের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন। সংসদ সদস্যের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে বিকেল ৩টার দিকে আন্দোলনকারীরা তাদের অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন, যার পর যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
শিশু হত্যার এই ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভ ও শোকের আবহ বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, মামলার এজাহার অনুযায়ী তদন্ত প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে এবং ঘটনার সাথে অন্য কারো সম্পৃক্ততা আছে কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।