রাজধানী ডেস্ক
ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সিটি করপোরেশন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। প্রশাসকদের সমন্বিত উদ্যোগের ফলে ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রমে একটি নতুন গতি এসেছে উল্লেখ করে তিনি এডিস মশার লার্ভার উৎপত্তিস্থল ধ্বংসে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার তাগিদ দেন।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলনকক্ষে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে আয়োজিত ‘ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধে গঠিত টাস্কফোর্স কমিটি’র সভায় সভাপতির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সভায় মাঠপর্যায়ের নানা অভিজ্ঞতার নিরিখে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমকে আরও সমন্বিত ও ফলপ্রসূ করতে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।
বক্তব্যে নগর পরিচ্ছন্নতায় নিয়োজিত সিটি করপোরেশনের কর্মীদের ভূমিকা আরও জোরদার করার তাগিদ দেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার চেয়ে রোগ প্রতিরোধ করা সবসময়ই অধিক কার্যকর। সে লক্ষ্যে এডিস মশার বংশবৃদ্ধি রোধে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে নতুন করে সাজাতে হবে। একই সঙ্গে তিনি বাসাবাড়ি, নির্মাণাধীন ভবন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং চারপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে নাগরিকদের সচেতন হওয়ার অনুরোধ জানান। বিশেষ করে ঝুলন্ত বা জমে থাকা পানির স্থান ও নির্মাণাধীন ভবনগুলোতে নিয়মিত তদারকি ও অভিযান পরিচালনা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালুর ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।
স্থানীয় সরকার বিভাগের এ বিশেষ সভায় দেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের প্রশাসকরা নিজ নিজ এলাকার ডেঙ্গু পরিস্থিতির চিত্র এবং চলমান প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম সম্পর্কে কমিটিকে অবহিত করেন। সরকার কর্তৃক সিটি করপোরেশনগুলোতে প্রশাসক নিয়োগের পর মাঠপর্যায়ের মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে বলে সভায় মন্তব্য করা হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে প্রতিটি ওয়ার্ড পর্যায়ে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ব্যক্ত করেন দায়িত্বশীলরা।
টাস্কফোর্স কমিটির এ সভায় ময়মনসিংহ, রংপুর ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসকরা সশরীরে অংশ নেন। অন্যদিকে চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, কুমিল্লা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং অন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ভার্চুয়ালি সংযুক্ত ছিলেন। এছাড়া স্থানীয় সরকার বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা সভায় উপস্থিত থেকে ডেঙ্গু মোকাবিলায় যৌথ উদ্যোগ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।