অপরাধ ডেস্ক
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় সিআইডি সদস্যের ভুয়া পরিচয় দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে তিন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের ফরিদপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—নাঈম মিয়া (২০), রাকিবুল ইসলাম (১৮) ও শেখ শাদিউল ইসলাম (২০)। তারা সবাই ঢাকার খিলগাঁও এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃতরা সিআইডি সদস্য পরিচয় দিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে প্রতারণা করার চেষ্টা করছিল। তারা মূলত বিদেশি ডলার ক্রয়-বিক্রয়ের প্রলোভন দেখিয়ে মানুষের সঙ্গে প্রতারণার জাল বিস্তার করেছিল। তাদের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি ফরিদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল মামুনকে অবহিত করেন। পরবর্তীতে চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে তাদের আটকে রাখা হয়।
খবর পেয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাদের হেফাজতে নেয়। এ সময় তাদের তল্লাশি চালিয়ে ভুয়া সিআইডি অফিস আদেশ, দুটি ওয়াকিটকি, পুলিশের লোগোযুক্ত মাস্ক, গ্লাভস এবং কিছু সার্জিক্যাল সরঞ্জামসহ প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী জব্দ করা হয়। জব্দকৃত এসব আলামত প্রমাণ করে যে, তারা সুপরিকল্পিতভাবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য সেজে জনসাধারণের সঙ্গে প্রতারণা করছিল।
এই ঘটনায় সাদুল্লাপুর থানায় একটি প্রতারণা মামলা দায়ের করা হয়েছে। সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তাজউদ্দিন খন্দকার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। শুক্রবার আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
ডিবি পুলিশের ভাষ্যমতে, প্রতারক চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ডলার বা অন্য কোনো অবৈধ লেনদেনের প্রলোভন দেখিয়ে তারা বিশেষ কোনো চক্রের সদস্য হিসেবে কাজ করছে কি না, সে বিষয়েও তদন্ত চলছে।
আইনজীবীদের মতে, সিআইডি বা অন্য কোনো সরকারি সংস্থার পরিচয়ে প্রতারণা করা একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ। দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় এ ধরনের প্রতারণার জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রতারক চক্রের আরও কোনো সদস্য জড়িত কি না, তা বেরিয়ে আসতে পারে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ সাধারণ মানুষকে এ ধরনের প্রতারক চক্র থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় দিয়ে অসংলগ্ন আচরণ বা অবৈধ দাবি জানায়, তবে দ্রুত স্থানীয় থানা পুলিশকে অবহিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করা হবে কি না, তা তদন্তকারী কর্মকর্তা নির্ধারণ করবেন। বর্তমানে তারা গাইবান্ধা জেলা কারাগারে রয়েছেন।