বিনোদন ডেস্ক
প্রথম আইরিশ অভিনেত্রী হিসেবে অস্কার বিজয়ী ব্রেন্ডা ফ্রিকার ৮১ বছর বয়সে পরলোকগমন করেছেন। শুক্রবার (১৭ জুলাই) দীর্ঘ অসুস্থতার পর তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার এজেন্ট। আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে নিজের কাজের মাধ্যমে তিনি বিশেষ পরিচিতি লাভ করেছিলেন।
১৯৪৫ সালে ডাবলিনে জন্মগ্রহণকারী ব্রেন্ডা ফ্রিকার মাত্র ১৯ বছর বয়সে অভিনয়ের দুনিয়ায় যাত্রা শুরু করেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি চলচ্চিত্র, মঞ্চ নাটক এবং আয়ারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যের টেলিভিশন পর্দায় সাবলীল অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন। তবে ১৯৮৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত পরিচালক জিম শেরিডানের ‘মাই লেফট ফুট’ চলচ্চিত্রটি তার ক্যারিয়ারে মাইলফলক হয়ে থাকে। চলচ্চিত্রটিতে ‘ব্রিজেট ফ্যাগন ব্রাউন’ চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রীর একাডেমি পুরস্কার অর্জন করেন। এই অর্জনের মধ্য দিয়ে তিনি প্রথম আইরিশ নারী হিসেবে অস্কার জেতার রেকর্ড গড়েন, যা আয়ারল্যান্ডের চলচ্চিত্র শিল্পের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়।
আয়ারল্যান্ডের পাশাপাশি হলিউডেও তিনি সফল ক্যারিয়ার গড়েছিলেন। নব্বইয়ের দশকে তিনি বেশ কিছু ব্যবসাসফল ও জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয় করেন। এর মধ্যে ‘দ্য ফিল্ড’, ‘সো আই ম্যারিড অ্যান অ্যাক্স মার্ডারার’, ‘এ টাইম টু কিল’ অন্যতম। তবে বিশ্বজুড়ে দর্শকদের কাছে তিনি বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে আছেন ১৯৯২ সালের ‘হোম অ্যালোন ২: লস্ট ইন নিউ ইয়র্ক’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য। সেখানে ম্যাকোলে কালকিনের বিপরীতে ‘পিজন লেডি’ চরিত্রে তার অভিনয় আজও চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছে সমাদৃত।
ব্যক্তিজীবনে ব্রেন্ডা ফ্রিকার ছিলেন প্রচারবিমুখ ও স্পষ্টভাষী। নিজের অর্জন বা খ্যাতি নিয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি ছিল সমসাময়িক অন্য অভিনয়শিল্পীদের চেয়ে কিছুটা ভিন্ন। অস্কারের মতো মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার ট্রফি নিয়েও তিনি বিভিন্ন সময়ে মজার ছলে মন্তব্য করেছেন। জনসমক্ষে বিভিন্ন সময় তিনি জানিয়েছিলেন, পুরস্কারটি পাওয়ার পর শুরুর দিকে তিনি এটিকে নিজের রান্নাঘরের সিঙ্কের নিচে একটি প্লাস্টিকের ব্যাগে রেখে দিয়েছিলেন। পরবর্তীকালে অবশ্য ট্রফিটি বসার ঘরের শেলফে স্থান পায়।
তার মৃত্যুর সংবাদে বিশ্বজুড়ে চলচ্চিত্র অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সমসাময়িক শিল্পী ও নির্মাতারা তাকে একজন অনন্য ও শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্মরণ করছেন। আয়ারল্যান্ডের অভিনয়শিল্পীদের জন্য তিনি দীর্ঘ সময় ধরে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে ছিলেন। তার প্রস্থান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র জগতের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।