সারাদেশ ডেস্ক
কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত জুলাই শহীদ দিবসের আলোচনা সভায় কুমিল্লা মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফখরুল ইসলাম মিঠু এবং জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুজ্জামানের মধ্যে বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। সভায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও গ্রেপ্তার প্রক্রিয়া নিয়ে পুলিশ সুপারের ভূমিকার সমালোচনা করেন ওই ছাত্রদল নেতা। এর প্রেক্ষিতে পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান পেশাগত দায়বদ্ধতা ও আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়ে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করে নিজের প্রতিক্রিয়া জানান।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) আয়োজিত ওই সভায় ফখরুল ইসলাম মিঠু পুলিশ সুপারকে উদ্দেশ্য করে অভিযোগ করেন যে, জেলায় ‘ফ্যাসিস্টরা’ ফিরে এসেছে এবং পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করছে না। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ঢালাওভাবে কোনো বাহিনী সম্পর্কে মন্তব্য করার আগে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে কথা বলা উচিত। তিনি এ ধরনের বক্তব্যকে অনুচিত উল্লেখ করে বলেন, সরকারি দপ্তরের এই সভা কোনো রাজনৈতিক মঞ্চ নয়।
নিজের অতীত রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার প্রসঙ্গ টেনে পুলিশ সুপার বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রজীবন থেকেই তিনি ছাত্রদল রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। তিনি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাজের পরিধি স্পষ্ট করে জানান, কার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বা কাকে গ্রেপ্তার করা হবে, তা সুনির্দিষ্ট আইন অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। ওসি বা পুলিশ কাকে গ্রেপ্তার করবে, তা বাইরের কারো নির্দেশে পরিচালিত হয় না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
পুলিশ সুপারের ভাষ্যমতে, গত ১৭ বছরে দেশের বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করা হয়েছে। ৫ আগস্টের পরবর্তী অস্থির পরিস্থিতিতে পুলিশ বাহিনীর স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হলেও বর্তমানে তা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তিনি বর্তমান সরকারকে পুনর্গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সময় দেওয়ার আহ্বান জানান।
বিচারের দীর্ঘসূত্রতা বা বিচারহীনতার অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করছে। আলোচিত বিভিন্ন মামলার ক্ষেত্রে বিচারিক আদালতের রায় প্রদান এবং চলমান বিচার প্রক্রিয়া এর বড় প্রমাণ। তিনি নিজে অনেক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট প্রদান করেছেন বলেও সভায় উল্লেখ করেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও আইনি বাধ্যবাধকতার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে পুলিশ সুপার সভায় উপস্থিত সকলকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে, ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ভিত্তিতে ফ্যাসিস্ট আখ্যা দিয়ে কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব নয়, বরং তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই কেবল আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। সভায় জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।