অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক
দেশের তরুণ উদ্যোক্তাদের নতুন নতুন উদ্ভাবনী উদ্যোগের অর্থায়ন ও টেকসই বিকাশের লক্ষ্যে ৫০০ কোটি টাকার একটি বিশেষ স্টার্টআপ ফান্ড গঠন করেছে সরকার। যুবসমাজকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে এবং নতুন ব্যবসায়িক উদ্যোগের প্রাথমিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই তহবিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত ‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনাময় বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই তহবিলের ঘোষণা দেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় সরকারের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তরুণ উদ্যোক্তাদের সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে বলেন, উদ্যোক্তা হওয়ার পথটি অত্যন্ত কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং হলেও দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি থাকলে যেকোনো প্রতিকূলতা জয় করা সম্ভব। নতুন কিছু করার স্বপ্ন নিয়ে যাঁরা এগিয়ে আসছেন, তাঁদের পাশে সরকার সর্বদা রয়েছে।
উদ্যোক্তাদের আইনি, প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত সহায়তা প্রদানের প্রক্রিয়াকে সহজতর করতে আইসিটি বিভাগের উদ্যোগে ‘জাতীয় স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা প্ল্যাটফর্ম’ (startup.ictd.gov.bd) নামের একটি বিশেষ ওয়েবসাইটের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এই প্ল্যাটফর্মটি দেশের তরুণ উদ্যোক্তাদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় রিসোর্স, বিনিয়োগকারী এবং সরকারি নীতিমালার সংযোগ স্থাপন করতে একটি সমন্বিত মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে। উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী দেশের ৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী এবং সফল উদ্যোক্তাদের সঙ্গে স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে এক উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তাঁর জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, কর্মজীবনের শুরুতে তিনি স্বল্প সময়ের জন্য ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত হলেও পরবর্তীতে দেশ ও মানুষের সেবায় রাজনীতিকে বেছে নেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথপরিক্রমায় নানা প্রতিকূলতা ও ধৈর্যের পরীক্ষা দিয়ে আজকের অবস্থানে পৌঁছানোর কথা উল্লেখ করে তিনি তরুণদেরও যেকোনো পরিস্থিতিতে ধৈর্য ও সততার সঙ্গে লক্ষ্যপানে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক রূপান্তর এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গঠনে তরুণদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দেশের প্রতিটি খাতের কাঠামোগত পরিবর্তনের জন্য নিরলস কাজ করছে। তরুণদের এই দক্ষ ও উদ্ভাবনী শক্তির ওপর ভর করেই আগামী দিনে দেশ আরও এগিয়ে যাবে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এবং অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান।
এদিকে যুবসমাজের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চাহিদাভিত্তিক দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলাকে বর্তমান সরকারের প্রধান নীতিগত অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। ‘বিশ্ব যুব দক্ষতা দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি উল্লেখ করেন, একটি উৎপাদনশীল, আত্মনির্ভরশীল, বৈষম্যহীন ও প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণে দক্ষতা উন্নয়নকে জাতীয় উন্নয়ন কৌশলের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। দেশের প্রতিটি তরুণকে বৈশ্বিক বাজারের উপযোগী করে গড়ে তুলতে সরকার বিভিন্নমুখী প্রশিক্ষণ ও প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা সম্প্রসারণ করছে।
একই দিনে জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘বিডি ক্লিন’-এর একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে। সাক্ষাৎকালে পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ে তোলা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে সংগঠনটির চলমান কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং বিডি ক্লিনের প্রতিনিধিদলের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিতকরণে স্বেচ্ছাসেবকদের ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং এই সামাজিক আন্দোলনকে দেশব্যাপী আরও জোরদার করার তাগিদ দেন। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে যাত্রা শুরু করা এই সংগঠনটি বর্তমানে দেশের ৫৮টি জেলায় ৫৮ হাজারের বেশি সদস্য নিয়ে পরিবেশ সুরক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।