নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ৩৭০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন থানা ও গোয়েন্দা পুলিশের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এই অভিযানে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানকালে অপহৃত বা জিম্মি অবস্থায় থাকা দুজন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করার পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য, জাল নোট, মোবাইল ফোন এবং সিম কার্ড জব্দ করা হয়েছে। এই ঘটনায় রাজধানীর বিভিন্ন থানায় মোট ৪০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে পুলিশ প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।
আজ সোমবার (১৩ জুলাই) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অভিযানের সার্বিক তথ্য গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঢাকা মহানগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ এবং অবৈধ মাদক ও চোরাচালান বিরোধী নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই চিরুনি অভিযান চালানো হয়।
ডিএমপি সূত্র জানায়, ঢাকা মহানগরীর মোট আটটি অপরাধ বিভাগ এবং গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পৃথকভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে। বিভাগভিত্তিক গ্রেপ্তারকৃতদের সংখ্যা বিশ্লেষণে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি অপরাধী গ্রেপ্তার হয়েছে মিরপুর বিভাগ থেকে। এই বিভাগ থেকে মোট ৯১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া ওয়ারী বিভাগ থেকে ৫৯ জন, মতিঝিল বিভাগ থেকে ৫৪ জন, তেজগাঁও বিভাগ থেকে ৪৩ জন এবং রমনা বিভাগ থেকে ৩৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদিকে উত্তরা বিভাগে ৩২ জন, গুলশান বিভাগে ৩১ জন এবং লালবাগ বিভাগ থেকে ১৮ জনকে অপরাধমূলক কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক করা হয়। একই সময়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) বিশেষ অভিযান চালিয়ে আরও আটজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
অভিযান পরিচালনাকারী দলগুলো গ্রেপ্তারকৃতদের হেফাজত থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ মালামাল উদ্ধার করেছে। জব্দকৃত সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ১৬ হাজার ২৮৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং ১ কেজি ৩২০ গ্রাম গাঁজা। মাদকদ্রব্যের পাশাপাশি উদ্ধার করা হয়েছে জালিয়াতি চক্রের ব্যবহৃত জাল নোট, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত ২২টি মোবাইল ফোন এবং ৫৯টি বিভিন্ন অপারেটরের সিম কার্ড। এ সময় অপরাধীদের ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকারও জব্দ করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।
পুলিশের অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোন ও বিপুল সংখ্যক সিম কার্ডের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রতারক চক্র বা অপরাধী দল রাজধানীতে সক্রিয় ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে বিভিন্ন অপরাধ চক্র ভুয়া পরিচয় বা বেনামী সিম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, ছিনতাই বা প্রতারণা করে আসছিল। এই অভিযানে এত বিপুল সংখ্যক সিম কার্ড ও মোবাইল জব্দ হওয়ায় এই চক্রগুলোর নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ডিএমপির মিডিয়া বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, জালিয়াতি এবং অন্যান্য অপরাধের ধারায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। উদ্ধারকৃত ভুক্তভোগীদের আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। রাজধানীর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অপরাধ চক্রের মূল উৎপাটন করতে ডিএমপির এই ধরনের বিশেষ ও নিয়মিত অভিযান আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।