বিশেষ প্রতিবেদক
দেশের আইনজীবীদের সর্বোচ্চ পেশাজীবী ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ বার কাউন্সিল পরিচালনার জন্য ১৫ সদস্যের একটি নতুন অ্যাড-হক কমিটি গঠন করেছে সরকার। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান আইন কর্মকর্তা অর্থাৎ পদাধিকারবলে দেশের অ্যাটর্নি জেনারেল এই অ্যাড-হক বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। সরকারের এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নবগঠিত কমিটি ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত মোট এক বছর মেয়াদের জন্য বার কাউন্সিল পরিচালনার অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব লাভ করল।
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে গত মঙ্গলবার এক বিশেষ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই কমিটি গঠনের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট অনুবিভাগ থেকে জারি করা উক্ত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনার্স অ্যান্ড বার কাউন্সিল অর্ডার, ১৯৭২ (রাষ্ট্রপতির ১৯৭২ সালের ৪৬ নম্বর আদেশ)-এর সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ ও বিধান এবং এর অধীনে প্রণীত বিধিমালা অনুযায়ী এই নতুন অ্যাড-হক বার কাউন্সিল তার যাবতীয় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্যাবলি সম্পাদন করবে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী এই প্রজ্ঞাপন অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে।
১৫ সদস্যের এই উচ্চপর্যায়ের অ্যাড-হক কমিটিতে সুপ্রিম কোর্ট ও দেশের গুরুত্বপূর্ণ জেলা আইনজীবী সমিতিগুলোর জ্যেষ্ঠ ও শীর্ষস্থানীয় আইনজীবীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কেন্দ্রীয়ভাবে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের মধ্য থেকে সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার মো. বদরুদ্দোজা বাদল, এ এইচ এম মুশফিকুর রহমান তুহিন, রাগীব রউফ চৌধুরী, মোহাম্মদ শিশির মনির এবং মাহফুজুর রহমান মিলন।
এ ছাড়া সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের মধ্য থেকে আরও সদস্য করা হয়েছে অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার, জসীম উদ্দীন সরকার, নাসির উদ্দিন অসীম, সরকার তাহমিনা বেগম সন্ধ্যা এবং মোহাম্মদ হোসেন লিপুকে। সুপ্রিম কোর্ট বার ছাড়াও দেশের স্থানীয় ও আঞ্চলিক আইনজীবী সমিতিগুলোর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে জেলা পর্যায় থেকে তিনজনকে এই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন— চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির অ্যাডভোকেট মো. নাজিম উদ্দিন চৌধুরী, বগুড়া জেলা আইনজীবী সমিতির অ্যাডভোকেট আলী আসগর এবং দেশের বৃহত্তম জেলা বার তথা ঢাকা আইনজীবী সমিতির অ্যাডভোকেট সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
আইনজীবী ও আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে লিগ্যাল প্র্যাকটিশনার্সদের সনদ প্রদান, পেশাগত শৃঙ্খলা রক্ষা, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং আইনজীবী সমাজের সার্বিক তদারকির দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল। সাধারণ নিয়মে নিয়মিত নির্বাচনের মাধ্যমে তিন বছর মেয়াদী কার্যনির্বাহী কমিটি বার কাউন্সিল পরিচালনা করে থাকে। তবে বিশেষ বা জরুরি পরিস্থিতিতে কোনো কারণে যথাসময়ে সাধারণ নির্বাচন আয়োজন সম্ভব না হলে বা অন্য কোনো আইনি প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে সরকার নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য অ্যাড-হক কমিটি গঠন করতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নবগঠিত এই অ্যাড-হক কমিটি আগামী এক বছর দেশের আইনজীবী সমাজের অভিভাবক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তাদের অন্যতম প্রধান কাজ হবে রুটিন কার্যাবলি সম্পাদনের পাশাপাশি একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য পরিবেশ তৈরি করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিয়মিত বার কাউন্সিল নির্বাচনের আয়োজন করা, যাতে পরবর্তীতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত পূর্ণাঙ্গ কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করা সম্ভব হয়। নতুন এই কমিটি গঠনের ফলে বার কাউন্সিলের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমে স্থবিরতা কাটার পাশাপাশি দেশের বিচারিক অঙ্গনে আইনজীবীদের পেশাগত মানোন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।