অপরাধ ডেস্ক
রাজধানীর শাহবাগ থানা এলাকায় একটি শপিং মলে অভিযান চালিয়ে ৪০ লাখ টাকার জাল নোটসহ চারজন পেশাদার জাল মুদ্রা ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত শনিবার রাতে শাহবাগ থানাধীন মোতালিব প্লাজায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) একটি বিশেষ দল এই অভিযান পরিচালনা করে। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা হলেন—নাফিজ আহম্মেদ (২৬), মো. রহমত উল্লাহ (২৬), ইয়াকুব আলী চৌধুরী (৩৯) ও রুবেল (৪২)। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে একটি সুসংগঠিত চক্রের মাধ্যমে বাজারে জাল টাকা ছড়িয়ে দেওয়ার অবৈধ ও অপরাধমূলক কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত। গতকাল রবিবার (২৮ জুন) ডিএমপির একটি দায়িত্বশীল সূত্র এই গ্রেফতার ও অর্থ উদ্ধারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে।
পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক Relatons বিভাগ সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে শাহবাগের মোতালিব প্লাজার পঞ্চম তলার একটি দোকানে বিপুল পরিমাণ জাল টাকাসহ কয়েকজন ব্যক্তি অবস্থান করছেন—এমন একটি সুনির্দিষ্ট ও গোপন সংবাদ পায় শাহবাগ থানা পুলিশ। তথ্যের সত্যতা যাচাই ও অপরাধীদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে পুলিশের একটি চৌকস দল ওই শপিং মলে তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি করে তাদের হেফাজত থেকে মোট ৪০ লাখ টাকার সমপরিমাণ জাল নোট উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে অবৈধ মুদ্রা চোরাচালান ও ব্যবসার সাথে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে ঘটনাস্থল থেকে এই চারজনকে গ্রেফতার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামিরা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে স্বীকার করেছে যে, তারা দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা শহরসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জাল টাকা তৈরি, সরবরাহ ও বাজারজাতকরণের একটি বড় সিন্ডিকেট পরিচালনা করে আসছিলেন। সাধারণত বিভিন্ন জাতীয় উৎসব-পার্বণ কিংবা বড় বড় বাণিজ্যিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে এই চক্রটি দেশজুড়ে সক্রিয় হয়ে উঠত। শপিং মল ও পশুর হাটসহ জনাকীর্ণ স্থানে সাধারণ মানুষের অসচেতনতার সুযোগ নিয়ে আসল টাকার ভেতরে সুকৌশলে জাল নোট ঢুকিয়ে তারা বাজারে ছড়িয়ে দিত।
ডিএমপির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উদ্ধারকৃত জাল নোটগুলোর গুণগত মান, তৈরির কাঁচামাল এবং মুদ্রণের উৎস গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই দেশীয় চক্রের পেছনে অন্য কোনো বড় অর্থদাতা, রাজনৈতিক সুবিধাভোগী বা আন্তর্জাতিক জাল মুদ্রা চক্রের সংযোগ রয়েছে কিনা, তা উদঘাটনে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনসহ সংশ্লিষ্ট ফৌজদারি আইনে শাহবাগ থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। আজই তাদের আদালতে সোপর্দ করে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন জানানো হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
অর্থনৈতিক ও অপরাধ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বাজারে জাল টাকার বিস্তার কেবল সাধারণ ক্রেতা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদেরই আকস্মিক আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলে না, বরং দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রেও মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এই ধরনের অবৈধ অর্থনৈতিক অপরাধ ও সমান্তরাল অর্থনীতি রোধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিটি শপিং মল ও প্রধান বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে ব্যাংকিং বুথ এবং আধুনিক জাল টাকা শনাক্তকরণ যন্ত্রের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা জরুরি। শাহবাগ থানা পুলিশের এই সফল অভিযানকে বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা এবং আসন্ন উৎসবগুলোতে অপরাধ দমনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট নীতি-নির্ধারকেরা।