1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ০২:৫৪ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ যুক্তরাজ্য ভিসায় জালিয়াতি ও প্রতারণা রোধে বাংলাদেশি নাগরিকদের সতর্কবার্তা প্রদান কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এবার রেকর্ড ১৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা স্বল্প সময়ে জনকল্যাণমুখী ও সাহসী বাজেট দিয়েছে সরকার: জাতীয় সংসদে হুইপ অপু মোহাম্মদপুরে ‘পাটালি গ্রুপের’ সেকেন্ড ইন কমান্ডসহ গ্রেপ্তার ৮ করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করার সিদ্ধান্ত, ব্যাংকে টিআইএন বাধ্যতামূলক হচ্ছে না প্রস্তাবিত বাজেট জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত হয়েছে: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নির্যাতিত তৃণমূল নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনে বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের দাবি শামা ওবায়েদের ১০০০ ও ৫০০ টাকার নোট বাতিলের দাবি সংসদ সদস্য মাহবুব উদ্দিন খোকনের চেক রিপাবলিক ও স্লোভাকিয়া সফরে গেলেন সেনাপ্রধান

রামপুরার হত্যাকাণ্ড: সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিনজনের মৃত্যুদণ্ড

রিপোর্টার
  • আপডেট : রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬
  • ০ বার দেখা হয়েছে

আইন আদালত ডেস্ক

রাজধানীর রামপুরায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণ ও তিনজনকে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিন আসামির মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই মামলায় অপর এক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং একজনকে ২০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্যানেল এই রায় ঘোষণা করেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই রায় প্রদান করেন। এই প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন— বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। রায় ঘোষণার সময় আদালতের এজলাস কক্ষে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

আদালতের রায় অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি হলেন— ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, খিলগাঁও জোনের সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম এবং রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান। এছাড়া রামপুরা থানার সাবেক উপ-পরিদর্শক (এসআই) তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে ২০ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন আদালত।

আজ বেলা ১১টা ৪৮ মিনিটে ট্রাইব্যুনালে রায় পাঠের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়। এর আগে, কার্যক্রমের শুরুতেই প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম আদালতের কাছে ট্রাইব্যুনালের এই রায়ের বিবরণী বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) সরাসরি সম্প্রচারের অনুমতি প্রার্থনা করেন। আদালতের অনুমতি সাপেক্ষেই পরবর্তীতে এই রায় প্রকাশ অনুষ্ঠানটি বিটিভিতে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

রায়ের বিবরণী অনুযায়ী, শুরুতেই মামলার আসামিদের অপরাধ ও আইনি দায়-দায়িত্বের অংশটি পড়ে শোনান ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার। এরপর মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা চার্জ গঠনের অংশটি পাঠ করেন বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। সর্বশেষ, আসামিদের সাজার মূল অংশ এবং চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন প্যানেলের অন্যতম সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে কেবল তৎকালীন এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকার বর্তমানে গ্রেপ্তার রয়েছেন। বেলা ১১টা ৩৫ মিনিটে তাকে কড়া নিরাপত্তায় ট্রাইব্যুনালের এজলাসে হাজির করা হয়। ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ মামলার অপর চার আসামি এখনো পলাতক রয়েছেন। তাদের অনুপস্থিতিতেই এই বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয় এবং পলাতকদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর রামপুরা এলাকায় ব্যাপক সংঘর্ষ ও পুলিশি অভিযান শুরু হয়। ওই সময় পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে আমির হোসেন নামের এক তরুণ একটি নির্মাণাধীন ভবনে আশ্রয় নেন। অভিযোগ রয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাকে সেখান থেকে নিচে লাফ দিতে বাধ্য করেন। একপর্যায়ে আমির হোসেন ভবনের কার্নিশের রড ধরে ঝুলে থাকলে তাকে লক্ষ্য করে নির্মমভাবে গুলি চালানো হয়। এতে তার দুই পা মারাত্মকভাবে গুলিবিদ্ধ হয়। একই দিনে রামপুরার বনশ্রী এলাকায় পুলিশের নির্বিচার গুলিবর্ষণে নাদিম ও মায়া ইসলাম নামে আরও দুই ব্যক্তি নিহত হন। এই নৃশংস ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলাটি দায়ের করা হয়।

আইনজীবী ও আইন विशेषज्ञोंর মতে, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচারে এই রায় একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। এটি প্রমাণ করে যে, রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে থেকে জনগণের ওপর ক্ষমতার অপব্যবহার বা মানবতাবিরোধী অপরাধের মতো গুরুতর কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। এই রায়ের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ন্যায়বিচার পেয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে দেশের বিচার ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দমনপীড়ন রোধে এটি একটি প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026