রাজধানী ডেস্ক
পবিত্র আশুরা উপলক্ষে প্রতিবছরের ধারাবাহিকতায় এবারও রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী হোসাইনি দালান ইমামবাড়া থেকে শিয়া সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী তাজিয়া মিছিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তাজিয়া মিছিলের সার্বিক নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্নে চলাচল নিশ্চিত করতে রাজধানীর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বিশেষ ট্রাফিক নির্দেশনা জারি করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক-লালবাগ বিভাগ। এই নির্দেশনা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে উল্লেখিত রুটগুলোতে যানবাহন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ও নিয়ন্তিত থাকবে।
ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রথম দফায় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টা থেকে শুরু করে তাজিয়া মিছিল শেষ হওয়া পর্যন্ত (আনুমানিক ভোর ৪টা) লালবাগ বিভাগের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে সাধারণ যানবাহন চলাচল সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রিত ও বন্ধ রাখা হয়। এই সময়ের মধ্যে মিছিলটি হোসাইনী দালান ইমামবাড়া থেকে শুরু হয়ে চাঁনখারপুল/নিমতলী ক্রসিং, নাজিমুদ্দিন রোড, জেল রোড, হাজী সেলিম টাওয়ার রোড, চক-সার্কুলার রোড, চকবাজার মডেল থানা মোড়, চকবাজার, থানার সামনের শাহী মসজিদ মোড়, কারা সদর দপ্তর নতুন রাস্তা, উমেশ দত্ত রোড, বকশী বাজার (কলপাড়) মোড় এবং বকশী বাজার লেন হয়ে পুনরায় হোসাইনী দালান রোডে ফিরে আসে।
দ্বিতীয় দফায় আজ শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে তাজিয়া মিছিলের মূল অংশটি শুরু হয়েছে, যা শেষ না হওয়া পর্যন্ত (আনুমানিক দুপুর আড়াইটা) সংশ্লিষ্ট সড়কগুলোতে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ ও ডাইভারশন দেওয়া থাকবে। শুক্রবারের নির্ধারিত রুটটি হচ্ছে— হোসাইনী দালান ইমামবাড়া থেকে বকশী বাজার লেন, আলিয়া মাদ্রাসা মোড়, বকশী বাজার (কল পাড়) মোড়, উমেশ দত্ত রোড, উর্দু রোড মোড়, হরনাথ ঘোষ রোড, লালবাগ চৌরাস্তা মোড়, গোর-এ-শহিদ মাজার মোড়, এতিমখানা মোড় এবং আজিমপুর চৌরাস্তা মোড়। এরপর মিছিলটি ইডেন কলেজ, নিউমার্কেট মোড়, মিরপুর রোড, ঢাকা কলেজ, সায়েন্স ল্যাব মোড়, ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার ২ নম্বর রোড, বিজিবি ৪ নম্বর গেট এবং সাত মসজিদ রোড হয়ে ঝিগাতলা ধানমন্ডি লেকের অস্থায়ী কারবালা প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হবে।
জাতীয় শোকের এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানটি উদযাপনে প্রতিবছরই পুরান ঢাকা ও ধানমন্ডি এলাকায় বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম ঘটে। ফলে যানজট এড়াতে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা হয়েছে। ডিএমপির ট্রাফিক-লালবাগ বিভাগ এই সময়সীমার মধ্যে সংশ্লিষ্ট এলাকার সাধারণ নগরবাসী ও মোটরযানচালকদের বিকল্প সড়ক ব্যবহারের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছে। একই সাথে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের নির্দেশনা মেনে সার্বিক সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।