1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ০২:৪৬ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
চীনের দালিয়ান থেকে বুলেট ট্রেনে বেইজিংয়ের পথে প্রধানমন্ত্রী কাতারের উপহার দেওয়া বোয়িং ৭৪৭-৮ আই বিমানে ব্যাপক পরিবর্তন, হতে যাচ্ছে নতুন ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের মূল্যে ধারাবাহিক পতন, ৪ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি ও শিক্ষাসূচি সংস্কারে কেন্দ্র সচিবদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত মিরপুরের পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের পর চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে মা, বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি অনলাইনে পেনশন ট্র্যাকিং পদ্ধতি চালু করছে সরকার, কমবে হয়রানি ভরিতে কমলো ৪০৮ টাকা, দেশের বাজারে রুপার নতুন দাম নির্ধারণ ডব্লিউইএফের প্ল্যানারি সেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জিম্বাবুয়ে সফরে বাংলাদেশ দল, বিশ্রামে থাকা তাসকিনকে নিয়ে প্রধান কোচের মূল্যায়ন ঘানার বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র ইংল্যান্ডের, পানামা ম্যাচ ঘিরে পরিবর্তনের আভাস

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি আলোচনার টেবিলে ছিল না: শাহবাজ শরিফ

রিপোর্টার
  • আপডেট : বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬
  • ১৫ বার দেখা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আমেরিকার সাথে ইরানের চলমান কূটনৈতিক আলোচনায় তেহরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি কখনোই আলোচনার টেবিলে বা এজেন্ডায় ছিল না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। ইসলামাবাদে সফররত ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ (এমওইউ)-এর কথা উল্লেখ করে বলেন, ইরান কখনোই তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করতে চায়নি এবং তা আলোচনার সূচিতেও অন্তর্ভুক্ত ছিল না। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল এই ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস করাকেই ইসলামিক প্রজাতন্ত্রটির বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেছিল। এই যৌথ সংবাদ সম্মেলন ও নেপথ্য কূটনৈতিক তৎপরতা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে একটি বড় ধরনের কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে বৈশ্বিক রাজনীতির দ্বিমুখী নীতির তীব্র সমালোচনা করে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোর যদি ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি থাকতে পারে, তবে ইরানের ক্ষেত্রে কেন ভিন্ন নীতি অবলম্বন করা হবে; এমন দ্বিচারিতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একই সম্মেলনে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান তেহরানের কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে জানান, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি কখনোই কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তির অংশ হবে না এবং জাতীয় নিরাপত্তার এই মৌলিক বিষয়ে তারা কোনো ধরনের আপস করবেন না। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এই প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতিতে ইরানের এই আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা না থাকত, তবে প্রতিপক্ষ শক্তিগুলো দেশটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করতে দ্বিধা করত না। সম্প্রতি প্যারিসে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনেও মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায় থেকে স্বীকার করা হয়েছে যে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধের দাবিটি অবাস্তব ছিল।

অথচ উদ্ভূত সংকটের শুরুতে আমেরিকার অবস্থান ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। পূর্ববর্তী নীতিগত অবস্থানে পরিষ্কার বলা হয়েছিল যে, কৌশলগত অভিযানের প্রধান লক্ষ্য ছিল ইরানের ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ও উৎপাদন সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করা এবং সামগ্রিক সামরিক হুমকি নির্মূল করা। তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার প্রেক্ষিতে আমেরিকার এই প্রাথমিক লক্ষ্যগুলোতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে বলে কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সম্পূর্ণ অবসান কিংবা সামগ্রিক পারমাণবিক সক্ষমতা জব্দ করার মতো মূল উদ্দেশ্যগুলোর কোনোটি অর্জিত না হওয়ায় বর্তমানে ওয়াশিংটন কেবল হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত রাখা এবং ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সেই বিষয়ের ওপরই বেশি জোর দিচ্ছে।

বর্তমানে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় সুইজারল্যান্ডে ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’-এর আওতায় দুই দেশের মধ্যে এই উচ্চপর্যায়ের কারিগরি আলোচনা চলছে। মার্কিন উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি ও ইরানের প্রধান মধ্যস্থতাকারীদের মধ্যে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার বৈঠককে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এর পরপরই সাময়িকভাবে নির্দিষ্ট কিছু নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের সিদ্ধান্ত এসেছে, যা আঞ্চলিক ভূরাজনীতি এবং ইরানের তেল রপ্তানি ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই আলোচনাকে ইতিবাচক উল্লেখ করে জানিয়েছেন, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর রোডম্যাপ তৈরি হয়েছে।

এই সমঝোতা স্মারকের আওতায় আঞ্চলিক সংকটের অন্যান্য দিক, বিশেষ করে লেবানন সীমান্তেও শত্রুতা অবসানের রূপরেখা রয়েছে, তবে তা বাস্তবায়ন করা বেশ জটিল রূপ ধারণ করেছে। আন্তর্জাতিক যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টার মাঝেই ওয়াশিংটনে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে পৃথক ও প্রত্যক্ষ আলোচনা শুরু হয়েছে। তিন দিনব্যাপী এই বৈঠকে লেবানন মূলত দক্ষিণ লেবানন থেকে বিদেশি সেনা প্রত্যাহার, বন্দিমুক্তি এবং বাস্তুচ্যুতদের পুনর্বাসনের সময়সীমা নির্ধারণের দাবি জানাচ্ছে। বিপরীতে ইসরাইল সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টিকে হিজবুল্লাহর সম্পূর্ণ নিরস্ত্রিকরণের সাথে জুড়ে দিয়েছে এবং দক্ষিণ লেবাননে নিজস্ব নিরাপত্তা অঞ্চল বজায় রাখার শর্তে অনড় রয়েছে। এই দ্বিমুখী টানাপোড়েনের মধ্যেও ইসলামাবাদের এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠক এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে ইরানের অনড় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026