1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ০৪:১৩ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
তিস্তা প্রকল্পে চীনের সহযোগিতার আশ্বাস, বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে পানিসম্পদমন্ত্রীর বৈঠক বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর করার অঙ্গীকার সৌদি প্রবাসীদের সাদা কাগজে স্বাক্ষর ও টিপসই না দেওয়ার নির্দেশ বাংলাদেশ দূতাবাসের দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে দক্ষিণ আফ্রিকা ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাত: দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ: মেক্সিকো বিমানবন্দরে ইরানের ফুটবল অধিনায়ক ও সহকারী কোচকে আটক ভিনিসিয়ুসের টানা তিন ম্যাচে গোল: ব্রাজিলের হেক্সা মিশনের পালে নতুন হাওয়া জাপানের উত্তর-পূর্ব উপকূলে শক্তিশালী ৬.৯ মাত্রার ভূমিকম্প ১৭ ব্যবসা সুনির্দিষ্ট ভ্যাটের আওতায় আসছে, মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামানোর লক্ষ্য অর্থমন্ত্রীর স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউটে ব্রাজিল

যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে ট্রাম্পের যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করার প্রস্তাব পাস

রিপোর্টার
  • আপডেট : বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬
  • ২১ বার দেখা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের বিরুদ্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক অভিযান পরিচালনার ক্ষমতা সীমিত করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পাস করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট। প্রস্তাব অনুযায়ী, মার্কিন কংগ্রেসের সুনির্দিষ্ট অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো সামরিক অভিযান শুরু করা যাবে না। একই সঙ্গে চলমান সামরিক তৎপরতা বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রেসিডেন্টকে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এর আগে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদেও (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) প্রস্তাবটি সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে অনুমোদিত হয়েছিল।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৩ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে অনুষ্ঠিত এক ভোটাভুটিতে প্রস্তাবটি ৫০-৪৮ ভোটের ব্যবধানে পাস হয়। মার্কিন সিনেটে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও দলের চারজন সিনেটর—বিল ক্যাসিডি, লিসা মারকাওস্কি, সুসান কলিন্স এবং র‌্যান্ড পল—দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ডেমোক্র্যাটদের আনা এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন। অন্যদিকে, বিরোধী ডেমোক্র্যাট শিবিরের সিনেটর জন ফেটারম্যান প্রস্তাবটির বিপক্ষে অবস্থান নেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রস্তাবটি শেষ পর্যন্ত হোয়াইট হাউসের ভেটো ক্ষমতার কারণে চূড়ান্ত আইনে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকলেও, এটি ট্রাম্প প্রশাসনের একক সামরিক নীতির বিরুদ্ধে কংগ্রেসে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষের একটি বড় প্রতীকী বহিঃপ্রকাশ।

প্রস্তাব পাসের পর সিনেটে ডেমোক্র্যাট দলীয় নেতা চাক শুমার ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্র ও সামরিক নীতির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের কৌশল গ্রহণ করলেও বাস্তবে তা যুক্তরাষ্ট্রকে চরম বিশৃঙ্খলা, কৌশলগত ক্ষতি এবং বিপুল অর্থনৈতিক ব্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন প্রশাসন ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথ সমন্বয়ের মাধ্যমে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি ছিল, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদন ও সমরাস্ত্রের সক্ষমতা অর্জন থেকে বিরত রাখতেই এই প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এবং মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এই পদক্ষেপকে উসকানিমূলক ও অপ্রয়োজনীয় সামরিক তৎপরতা হিসেবে সমালোচনা করা হচ্ছে।

বর্তমানে সুইজারল্যান্ডের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে ইসরায়েলের লেবাননকেন্দ্রিক সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকায় এই শান্তি প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এমতাবস্থায় মার্কিন সিনেটের এই প্রস্তাবের বিরোধিতাকারীরা বলছেন, এটি চলমান আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক আলোচনায় ওয়াশিংটনের অবস্থানকে দুর্বল করতে পারে। রিপাবলিকান সিনেটর জেমস রিশ দাবি করেছেন, কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এমন বিধিনিষেধ আরোপের ফলে ইরান আলোচনার টেবিল থেকে সরে যাওয়ার বা চুক্তি নিয়ে গড়িমসি করার সুযোগ পেতে পারে।

তবে এই প্রস্তাব পাসের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়েছে যে, ইরানের সাথে চলমান সংঘাত নিয়ে ট্রাম্পের নীতি মার্কিন আইনপ্রণেতা এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে। সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপের তথ্যানুযায়ী, মাত্র ২৪ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন যে ইরানের সঙ্গে এই যুদ্ধের পেছনে হওয়া ব্যয় ও ক্ষয়ক্ষতি যৌক্তিক ছিল। এছাড়া, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই সামরিক উত্তেজনার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস এবং রাসায়নিক সারের মূল্য উল্লেখ্যযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা মার্কিন অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিসহ বিশ্বজুড়ে সাধারণ মানুষের ওপর বড় ধরনের মূল্যস্ফীতির চাপ সৃষ্টি করেছে। মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনীতির এই মন্দাভাব এবং যুদ্ধ নিয়ে জনঅসন্তোষ আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান দলের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, যুদ্ধ ঘোষণার চূড়ান্ত আইনগত ক্ষমতা এককভাবে কংগ্রেসের হাতে ন্যস্ত থাকলেও, গত কয়েক দশকে বিভিন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিশেষ নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়াই বিদেশে সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছেন। বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও দাবি করে আসছেন যে, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এই ধরনের সামরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাঁর নির্বাহী ক্ষমতার পরিধি সীমাবদ্ধ নয়। সিনেটের এই নতুন পদক্ষেপ মূলত প্রেসিডেন্টের সেই একচ্ছত্র নির্বাহী ক্ষমতার ওপর কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার একটি আইনি প্রয়াস।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026