অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আরও এক দফা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৪৩২ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের নতুন দাম ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি। সোমবার (২২ জুন, ২০২৬) সকালে বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ স্থায়ী কমিটির এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্যবৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষিতে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আজ সকাল ১০টা থেকেই দেশব্যাপী কার্যকর হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নতুন মূল্য তালিকায় ২২ ক্যারেট ছাড়াও অন্যান্য মানের স্বর্ণের দামও আনুপাতিক হারে বাড়ানো হয়েছে। এখন থেকে দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ২০ হাজার ৩৯১ টাকা। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৪৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৬০৬ টাকা। বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশনা বা নতুন সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত দেশের সমস্ত জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই মূল্য তালিকা অনুযায়ী স্বর্ণ বেচাকেনা করতে হবে।
গ্রাহক পর্যায়ের নির্দেশনায় সংগঠনটি স্পষ্ট করেছে যে, স্বর্ণালঙ্কারের ঘোষিত বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ইতোমধ্যেই প্রয়োজনীয় ভ্যাট যুক্ত করা হয়েছে। ফলে ক্রেতাদের কাছ থেকে আলাদাভাবে কোনো ভ্যাট আদায় করা যাবে না। তবে অলঙ্কারের মান ও আধুনিক ডিজাইন অনুযায়ী জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানগুলো পূর্বনির্ধারিত নিয়ম মেনে ক্রেতাদের কাছ থেকে মজুরি বা মেকিং চার্জ যুক্ত করতে পারবে। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রক্ষা এবং স্থানীয় বাজারে কাঁচামালের সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, ডলারের বিনিময় হারের ওঠানামা এবং স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের তীব্র সংকটের কারণেই মূলত দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। বিয়ের মৌসুম কিংবা উৎসব-পার্বণের বাইরেও নিরাপদ বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবে বিশ্বজুড়ে স্বর্ণের চাহিদা বৃদ্ধির প্রভাব বাংলাদেশের বাজারে সরাসরি প্রতিফলিত হচ্ছে। মূল্যবৃদ্ধির এই প্রবণতা দেশের সাধারণ মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার ওপর যেমন চাপ সৃষ্টি করবে, তেমনই অলঙ্কার শিল্পের সার্বিক ব্যবসায়িক টার্নওভারেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
বাজুসের অভ্যন্তরীণ পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, অভ্যন্তরীণ বাজারে স্বর্ণের মূল্যের এই অস্থিরতা চলতি বছরের শুরু থেকেই দৃশ্যমান। চলতি ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আজ পর্যন্ত দেশের বাজারে মোট ৭৯ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছে বাজুস। এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্যে ৪০ বারই স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছে, আর বিপরীতে দাম কমানো সম্ভব হয়েছে ৩৯ বার।
এর আগে, বিগত ২০২৫ সালেও স্বর্ণের বাজারে রেকর্ডসংখ্যক বার দামের ওঠানামা প্রত্যক্ষ করা গিয়েছিল। গত বছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। যার মধ্যে রেকর্ড ৬৪ বারই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল সংগঠনটিকে, আর দাম কমানো হয়েছিল মাত্র ২৯ বার। ধারাবাহিক এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার কারণে দেশের অলঙ্কার বাজারে এক ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় বাজারে স্বর্ণের বেচাকেনা এবং বিনিয়োগের সমীকরণকে প্রভাবিত করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট খাত সংশ্লিষ্টরা।