1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ০৩:০৬ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা বাস্তবায়নে বড় বাধা হতে পারে ইসরায়েল: বিশ্লেষক রস হ্যারিসন মোহাম্মদপুরে মিছিলের চেষ্টা: নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ১০ নেতাকর্মী আটক সাভারে কিশোরীকে ডেকে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে তিন যুবক গ্রেফতার গাজায় ইসরায়েলি হামলায় সাংবাদিক ও একই পরিবারের চারজনসহ নিহত ১১ দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নে সুইজারল্যান্ডে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধি দল চাঁদপুরে অবসর সুবিধা বোর্ডের নতুন সচিব অধ্যক্ষ মোশাররফ হোসেনের সংবর্ধনা হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর লক্ষ্যে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ দুর্নীতির অভিযোগে জুরি বিচারের মুখোমুখি স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা উত্তরাঞ্চল ও সিলেটে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা, চার বিভাগে ভারি বর্ষণের পূর্বাভাস ১০০০তম মাইলফলক ম্যাচে তিউনিসিয়ার বিপক্ষে চালকের আসনে জাপান

নেতৃত্বের সংকট ও দলীয় চাপ: পদত্যাগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের মুখে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার

রিপোর্টার
  • আপডেট : রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬
  • ১৩ বার দেখা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র উত্তেজনা ও নাটকীয় পট পরিবর্তনের আভাস দিয়ে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ সংকটের মুখে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের গুঞ্জন জোরালো হয়ে উঠেছে। দেশটির শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক ও সংবাদমাধ্যম সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, দলের ভেতরে ও বাইরে থেকে আসা তীব্র চাপের মুখে আগামী সোমবারের (২২ জুন) মধ্যেই তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দিতে পারেন এবং ডাউনিং স্ট্রিট থেকে বিদায়ের একটি সুনির্দিষ্ট সময়সূচি নির্ধারণ করতে পারেন। তবে সরকারের একটি নির্ভরযোগ্য অভ্যন্তরীণ সূত্র দাবি করেছে, নানামুখী গুঞ্জন সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী স্টারমার এখনো পুরোপুরি রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে মনোযোগী রয়েছেন এবং সরকারি কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন।

বিগত কয়েক মাস ধরেই কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্ব ও সরকারি নীতি নিয়ে লেবার পার্টির ভেতরে যে গভীর সংকট ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল, তা গত শুক্রবার এক নতুন ও চূড়ান্ত মাত্রায় রূপ নেয়। স্টারমারের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী এবং গ্রেটার ম্যানচেস্টারের জনপ্রিয় সাবেক মেয়র অ্যান্ডি বার্নহাম সম্প্রতি অনুষ্ঠিত একটি সংসদীয় উপনির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করে হাউজ অব কমন্সে ফিরে এসেছেন। বার্নহামের এই বিজয়ের ফলে লেবার পার্টির দলীয় নিয়ম অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বকে আনুষ্ঠানিকভাবে চ্যালেঞ্জ করার আইনি ও রাজনৈতিক পথ সুগম হয়েছে। এই ঘটনা দলটির ভেতরের দীর্ঘদিনের চাপা ক্ষোভ ও নেতৃত্ব পরিবর্তনের দাবিকে আরও স্পষ্ট এবং বেগবান করে তুলেছে।

যুক্তরাজ্যের গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কিয়ার স্টারমার বর্তমানে চ্যাকার্সে অবস্থিত তাঁর সরকারি গ্রামীণ বাসভবনে অবস্থান করছেন এবং তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে নিবিড় আলোচনা করছেন। লেবার পার্টির শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নেতার ধারণা, রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে প্রধানমন্ত্রী খুব শিগগিরই তাঁর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেশবাসীর সামনে প্রকাশ করতে পারেন। তবে সরকারি সূত্রগুলো স্টারমারের সাম্প্রতিক দৃঢ় অবস্থানের প্রতি ইঙ্গিত করে জানিয়েছে, গত শুক্রবার তিনি স্পষ্ট করে বলেছিলেন যে তাঁর নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের চ্যালেঞ্জ আসলে তিনি তা রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করবেন। একই সঙ্গে তিনি দলকে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে না জড়িয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে কনজারভেটিভ পার্টির ১৪ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে লেবার পার্টিকে এক ঐতিহাসিক ও বিশাল জয় এনে দিয়েছিলেন কিয়ার স্টারমার। তবে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পর সময়ের ব্যবধানে তাঁর ব্যক্তিগত ও দলীয় জনপ্রিয়তা দ্রুত হ্রাস পেতে শুরু করে। একাধিক অভ্যন্তরীণ নীতি পরিবর্তন, সরকারি নিয়োগসংক্রান্ত কেলেঙ্কারি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের দেওয়া প্রতিশ্রুতিসমূহ বাস্তবায়নে ব্যর্থতার কারণে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের সংকলিত তথ্য অনুযায়ী, লেবার পার্টির ১০০ জনেরও বেশি নির্বাচিত সংসদ সদস্য (এমপি) ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ অথবা নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন, যা হাউস অব কমন্সে ক্ষমতাসীন দলের চার ভাগের এক ভাগ সদস্যের অনাস্থার প্রতিফলন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ৫৬ বছর বয়সী অভিজ্ঞ রাজনীতিক অ্যান্ডি বার্নহামকে লেবার পার্টির একটি বড় অংশ এবং সাধারণ জনগণ কিয়ার স্টারমারের সবচেয়ে যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখছেন। বার্নহাম অতীতে প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার এবং গর্ডন ব্রাউনের মন্ত্রিসভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। ম্যানচেস্টারের মেয়র হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালনের পর উপনির্বাচনে এই জয় তাঁর অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে। বার্নহাম এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে স্টারমারকে চ্যালেঞ্জ না করলেও তাঁর বিজয় পরবর্তী ভাষণ এবং বক্তব্য দেশের জন্য একটি নতুন রাজনৈতিক পথের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়। তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা ইতিমধ্যেই স্টারমারকে স্বেচ্ছায় ও সম্মানজনকভাবে দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি সম্ভাব্য নতুন নেতা হিসেবে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের নামও দলের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে গুরুত্বের সাথে আলোচিত হচ্ছে।

এদিকে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমসের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অ্যান্ডি বার্নহাম যদি লেবার পার্টির নেতৃত্ব গ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পান, তবে তিনি বর্তমান চ্যান্সেলর অব দ্য এক্সচেকার বা অর্থমন্ত্রী র‍্যাচেল রিভসকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে নতুন কাউকে স্থলাভিষিক্ত করতে পারেন। যদিও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো তাৎক্ষণিকভাবে এই তথ্যের সত্যতা পুরোপুরি যাচাই করতে পারেনি।

রাজনৈতিক নীতিনির্ধারকদের মতে, কিয়ার স্টারমার যদি শেষ পর্যন্ত এই প্রবল চাপের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন, তবে গত এক দশকের মধ্যে যুক্তরাজ্য তাদের সপ্তম প্রধানমন্ত্রী প্রত্যক্ষ করবে। ঘন ঘন এই সরকার ও নেতৃত্ব পরিবর্তন যুক্তরাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এক গভীর অস্থিরতারই বড় বহিঃপ্রকাশ। লেবার পার্টির এই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব কেবল দলের ভবিষ্যৎকেই অনিশ্চিত করছে না, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও যুক্তরাজ্যের অবস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে ডাউনিং স্ট্রিট থেকে আসা যেকোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা যুক্তরাজ্যের রাজনীতির ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণ করবে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026