আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান পরোক্ষ আলোচনা ও কূটনৈতিক যোগাযোগ এগিয়ে নেওয়ার অংশ হিসেবে জরুরি সফরে তেহরান পৌঁছেছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন রাজা নাকভি। আজ শনিবার (২০ জুন) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন। তেহরানে অবস্থানকালে তিনি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিসহ দেশটির উচ্চপদস্থ সরকারি ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে বৈঠকে মিলিত হবেন।
ইসলামাবাদ ও তেহরানের কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা প্রশমন এবং স্থগিত থাকা পরমাণু চুক্তি পুনরুজ্জীবনের প্রক্রিয়াকে বেগবান করতে পাকিস্তান দীর্ঘ দিন ধরে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভির এই সফরকে সেই ধারাবাহিক প্রক্রিয়ারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতা প্রক্রিয়া জোরদার হওয়ার পর থেকে গত কয়েক মাসে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বেশ কয়েকবার তেহরান সফর করেছেন। এর আগে মাত্র দুই সপ্তাহ আগে এক সংক্ষিপ্ত সফরে তিনি তেহরান এসেছিলেন। সেই সফরে তিনি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইস্কান্দার মোমেনির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ইসলামাবাদের প্রত্যক্ষ মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাত্র দুই দিনের মাথায় পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পুনরায় তেহরান আগমন বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। ধারণা করা হচ্ছে, সমঝোতা স্মারকের শর্তসমূহ বাস্তবায়ন এবং পরবর্তী উচ্চপর্যায়ের আলোচনার রূপরেখা নির্ধারণ করতেই এই জরুরি বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক অবরুদ্ধ থাকায় আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় পাকিস্তান এই গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সেতু হিসেবে কাজ করছে। এই আলোচনার অগ্রগতি কেবল ইরান-মার্কিন সম্পর্কের বরফ গলাতেই সাহায্য করবে না, বরং সামগ্রিক মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে চলমান এই কূটনৈতিক তৎপরতা এবং সমঝোতা স্মারকের সুনির্দিষ্ট শর্তাবলি সম্পর্কে দুই দেশের সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখা হয়েছে।