জাতীয় ডেস্ক
বগুড়ার মোকামতলা উপজেলার নবগঠিত ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের দুই ছেলের নামের সঙ্গে মিল রেখে এই নামকরণ করার পর দেশের বিভিন্ন মহলে তীব্র সমালোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই সরকারপ্রধানের পক্ষ থেকে এই নির্দেশনা এলো। গতকাল শুক্রবার (১৯ জুন) সন্ধ্যায় বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জেলা প্রশাসক জানান, প্রধানমন্ত্রীর মৌখিক নির্দেশনা অনুযায়ী ইউনিয়ন দুটির নাম পরিবর্তনের প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কার্যক্রম ইতিমধ্যে শুরু করা হয়েছে। নতুন নাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণের মতামত, এলাকার ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং ভৌগোলিক পরিচিতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। এই লক্ষ্যে ওই এলাকায় পুনরায় গণশুনানির আয়োজন করা হবে বলে জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে। তবে নাম পরিবর্তনের বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত নির্দেশনা জেলা প্রশাসনের কাছে পৌঁছায়নি। প্রশাসনিক সূত্র মতে, নতুন নাম চূড়ান্ত হওয়ার পর যথাযথ আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।
এর আগে, গত ১১ জুন বগুড়ার জেলা প্রশাসকের স্বাক্ষরিত একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে শিবগঞ্জ ও নবগঠিত মোকামতলা উপজেলার প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠন করা হয়। ওই প্রজ্ঞাপনে ওই এলাকায় চারটি নতুন ইউনিয়ন গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়। এর মধ্যে শিবগঞ্জ উপজেলায় নতুন গঠিত ইউনিয়নের নাম দেওয়া হয় ‘মীরবাড়ী’। অন্যদিকে নবগঠিত মোকামতলা উপজেলায় তিনটি ইউনিয়ন গঠন করা হয়, যেগুলোর নাম রাখা হয় ‘সীমান্ত’, ‘দিগন্ত’ ও ‘স্বর্ণগ্রাম’।
প্রজ্ঞাপনটি জারির পর থেকেই নতুন চারটি ইউনিয়নের মধ্যে তিনটির নামকরণ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক ক্ষোভ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের পৈতৃক বাড়ির নামের সঙ্গে মিল রেখে ‘মীরবাড়ী’ এবং তার বড় ছেলে মীর শাকরুল আলম সীমান্ত ও ছোট ছেলে মীর সাকলাইন আলম দিগন্তের নামের সঙ্গে মিল রেখে ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নামকরণ করা হয়েছে। সরকারি প্রশাসনিক ইউনিটের নামকরণে একটি পরিবারের ব্যক্তিস্বার্থ ও পারিবারিক পরিচিতির প্রতিফলন ঘটায় তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
বিষয়টি নিয়ে জাতীয় সংসদ অধিবেশনেও প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীকে। দেশজুড়ে চলমান এই সমালোচনার মুখে প্রতিমন্ত্রী নিজেও বিব্রতবোধ করেন বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে যেন কোনো ধরনের ভুল ব্যাখ্যা বা প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি না হয়, সেজন্য প্রতিমন্ত্রী নিজেও ইউনিয়ন দুটির নাম পরিবর্তনের জন্য জেলা প্রশাসককে ব্যক্তিগতভাবে অনুরোধ জানান। এরই ধারাবাহিকতায় সরকারপ্রধানের পক্ষ থেকে নাম পরিবর্তনের এই চূড়ান্ত নির্দেশনা আসে, যা স্থানীয় পর্যায়ে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।