জাতীয় ডেস্ক
পবিত্র হজ পালন শেষে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছেন আরও ১ হাজার ১০৯ জন বাংলাদেশি হাজি। এ নিয়ে মোট ১৫৬টি ফিরতি ফ্লাইটে এখন পর্যন্ত দেশে ফিরেছেন ৬১ হাজার ৬৯৭ জন হাজি। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সর্বশেষ বুলেটিন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজ যাত্রী সৌদি আরবে যান। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ছিলেন ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন। গত ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার পর, ৩০ মে থেকে হাজিদের প্রথম ফিরতি ফ্লাইট শুরু হয়। আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত এই ফিরতি ফ্লাইট কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, এখন পর্যন্ত দেশে প্রত্যাবর্তনকারী হাজিদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ফিরেছেন ৪ হাজার ৩১৯ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ফিরেছেন ৫৭ comfort হাজার ৩৭৮ জন। অবশিষ্ট হজযাত্রীদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
হজযাত্রী পরিবহনে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে। ২০ জুন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যানুযায়ী, রাষ্ট্রীয় এই বিমান সংস্থাটি এককভাবে ২৭ হাজার ৩৬৩ জন হাজিকে দেশে ফিরিয়ে এনেছে। এ ছাড়া সৌদি আরব ভিত্তিক সৌদি এয়ারলাইনস ২১ হাজার ৬৫২ জন, ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস ৮ হাজার ৬৭২ জন এবং অন্যান্য এয়ারলাইনসের মাধ্যমে দেশে ফিরেছেন ৪ হাজার ১০ জন হাজি।
এখন পর্যন্ত পরিচালিত মোট ১৫৬টি ফিরতি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ৭৮টি, সৌদি এয়ারলাইনস ৫৬টি এবং ফ্লাইনাস ২২টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। শিডিউল বিপর্যয় এড়াতে এবং হাজিদের দুর্ভোগ কমাতে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ও বিমান সংস্থাগুলো বিশেষ নজরদারি রাখছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, চলতি বছর হজ পালন করতে গিয়ে এখন পর্যন্ত ৫৪ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ৩৬ জন পুরুষ এবং ১৮ জন নারী। ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী, পবিত্র মক্কায় সর্বোচ্চ ৩৭ জন, মদিনায় ১৬ জন এবং জেদ্দায় ১ জন মারা গেছেন। সৌদি আরবের স্থানীয় আইন অনুযায়ী, কোনো বিদেশি নাগরিক সেখানে মৃত্যুবরণ করলে তাঁর মরদেহ মক্কা বা মদিনার নির্দিষ্ট কবরস্থানে দাফন করা হয়। মৃতদের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আপত্তি থাকলে তা কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় সমাধান করা হয়ে থাকে।
বাংলাদেশি হাজিদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনায় বিশেষ চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছিল। বুলেটিনের তথ্যমতে, এসব চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে এখন পর্যন্ত ৬৬ হাজার ২৪৯টি স্বয়ংক্রিয় চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্র (ই-প্রেসক্রিপশন) প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি হাজিদের আবাসন, হারিয়ে যাওয়া লাগেজ উদ্ধার এবং অন্যান্য আইনি সহায়তার জন্য স্থাপিত আইটি হেল্পডেস্কের মাধ্যমে ২৮ হাজার ১৯৮টি সেবা নিশ্চিত করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ফিরতি ফ্লাইটের বাকি দিনগুলোতেও হাজিদের নির্বিঘ্ন সেবা দিতে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং জেদ্দা ও মদিনা বিমানবন্দরে বিশেষ ট্রাফিক ও ইমিগ্রেশন বুথ চালু রাখা হয়েছে, যাতে দেশে পৌঁছানোর পর হাজিরা দ্রুত এবং কোনো ভোগান্তি ছাড়াই বিমানবন্দর ত্যাগ করতে পারেন।