1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ০২:৫২ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে বিনিয়োগই জাতি গঠনের মূল ভিত্তি: প্রধানমন্ত্রী হাঁসপাতাল আধুনিকীকরণ ও সেবার মানোন্নয়নে সরকারের মেগা উদ্যোগ জনসেবা নিশ্চিত ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থানে সরকার, বিধিলঙ্ঘনে বাধ্যতামূলক অবসর ও বরখাস্তের হুঁশিয়ারি ২০২৬ বিশ্বকাপে দ্রুততম গোলের নতুন রেকর্ড গড়লেন প্যারাগুয়ের গালারজা সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছেন আরও ১১০৯ হাজি, মোট প্রত্যাবর্তন ৬১ হাজার ছাড়াল মেসিই সর্বকালের সেরা, নেইমার আমার আদর্শ: লামিনে ইয়ামাল হাইতির বিপক্ষে ব্রাজিলের সহজ জয়, জোড়া গোল কুনহার ট্রাম্পের দাবি ‘মনগড়া’, তীব্র প্রতিক্রিয়া জানালেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান দ্রুত প্রত্যাবাসন: জাতিসংঘে বাংলাদেশ দেশের আসল শক্তি বৈচিত্র্য ও সম্প্রীতির মাঝে নিহিত: পর্যটনমন্ত্রী

৬ মাসের মধ্যে চালু হচ্ছে ৫টি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল, নিয়োগ পাবেন ৭ হাজারের বেশি জনবল

রিপোর্টার
  • আপডেট : শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬
  • ৭ বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের স্বাস্থ্যসেবার পরিধি সম্প্রসারণ এবং তৃণমূল পর্যায়ে শিশু চিকিৎসাসেবা আরও উন্নত করতে আগামী ছয় মাসের মধ্যে খুলনা, বরিশাল, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগ এবং কুমিল্লা জেলায় একটি করে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই পাঁচ হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা পুরোদমে সচল রাখতে মোট ৭ হাজার ৩৭৫ জন নতুন জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে বরিশাল ও খুলনা বিভাগের হাসপাতাল দুটি আগামী আগস্টের প্রথম দিকেই চালু করার লক্ষ্য নিয়ে সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নবনির্মিত এসব হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র (আইসিইউ) সুবিধা, কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে শয্যাসংখ্যা সম্প্রসারণের বিশেষ সুযোগ থাকবে। হাসপাতালগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ও আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম ক্রয়ের দরপত্র (টেন্ডার) প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রতিটি হাসপাতালে ১ হাজার ৪৭৫ জন করে জনবলের প্রয়োজন হবে। এই বিশাল জনবল নিয়োগের বিষয়টি দ্রুত নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।

এর আগে, গত ১০ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের জরুরি বৈঠকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত পড়ে থাকা ছয়টি শিশু হাসপাতাল দ্রুত সচল করার নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে কর্মকর্তাদের হাসপাতালগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করে জুন মাসের শুরুর মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর এই কঠোর নির্দেশনার পর থেকেই স্থবির হয়ে থাকা হাসপাতালগুলো চালুর ক্ষেত্রে প্রশাসনিক তৎপরতা ব্যাপক বৃদ্ধি পায়।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ইতোমধ্যে খুলনা, বরিশাল ও কুমিল্লা সফর করে হাসপাতাল ভবনগুলোর সার্বিক অবকাঠামো ও প্রস্তুতি পরিদর্শন করেছেন। বরিশাল শিশু হাসপাতাল পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, নিউনেটাল ভেন্টিলেটর, সিটি স্ক্যান, এক্স-রে, পোর্টেবল এক্স-রে, মাল্টি প্যারামিটার বা কার্ডিয়াক মনিটর ও ফটোথেরাপি মেশিনসহ ২০০ শয্যার একটি আধুনিক হাসপাতালের জন্য প্রয়োজনীয় যাবতীয় যন্ত্রপাতি আগামী জুলাই মাসের মধ্যে প্রকল্প এলাকায় পৌঁছে দেওয়া হবে এবং ১ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে হাসপাতালটি উদ্বোধন করা সম্ভব হবে। প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দারও বরিশাল হাসপাতালটি পরিদর্শন করে জানিয়েছেন, প্রথম ধাপে এখানে জরুরি বিভাগের কার্যক্রম চালু করা হবে।

খুলনা বিভাগীয় শিশু হাসপাতালটি চালুর জন্যও স্থানীয় প্রশাসন ও গণপূর্ত বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. মুজিবুর রহমান জানান, নতুন হাসপাতালটির বর্তমান পরিস্থিতি ও প্রয়োজনীয়তার তথ্য মন্ত্রণালয় নিয়মিত তদারকি করছে এবং সে অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। অন্যদিকে, নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর দীর্ঘ ছয় বছর ধরে অব্যবহৃত পড়ে থাকা রংপুর বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালটি চালুর বিষয়েও জোরালো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক ডা. নাজমুল হোসেন হাসপাতালটির অবকাঠামো পরিদর্শন শেষে জানান, শুধু এই পাঁচটি হাসপাতালই নয়, দেশের স্বাস্থ্য খাতের এমন আরও যত অব্যবহৃত স্থাপনা রয়েছে, সেগুলো দ্রুত সচল করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে।

কুমিল্লা ও রাজশাহী অঞ্চলেও হাসপাতাল চালুর প্রক্রিয়া দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। কুমিল্লার সদর দক্ষিণের বেলতলী এলাকায় অবস্থিত শিশু হাসপাতালটি চালুর বিষয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. শাহজাহান ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় জনবল ও যন্ত্রপাতির চাহিদাপত্র সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দিয়েছেন। এছাড়া, রাজশাহী শিশু হাসপাতালটি আগামী তিন মাসের মধ্যে চালু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস রাজশাহী হাসপাতালটি পরিদর্শন করে জানিয়েছেন, প্রথম ধাপে হাসপাতালটিতে আউটডোর বা বহির্বিভাগ সেবা চালু করা হবে এবং পরবর্তী অর্থবছরে ধাপে ধাপে অভ্যন্তরীণ ও অন্যান্য বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা চালু করা হবে। এই বিশেষায়িত হাসপাতালগুলো পুরোদমে চালু হলে দেশের একটি বড় অংশের শিশুদের উন্নত ও আধুনিক চিকিৎসা প্রাপ্তি সহজতর হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026