বিনোদন ডেস্ক
হলিউড অভিনেতা ব্র্যাড পিটের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও পারিবারিক টানাপোড়েন কাটিয়ে আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ৫২ বছর বয়সী এই তারকা নিজের মানসিক বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠার পেছনে সন্তানদের ভূমিকার কথা প্রকাশ করেছেন। দীর্ঘ আট বছরের আইনি লড়াই শেষে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে এই তারকা দম্পতির বহুল আলোচিত বিচ্ছেদের বিষয়টি চূড়ান্ত রূপ পায়।
জোলি জানান, বিবাহবিচ্ছেদের পরবর্তী সময়ে তিনি এক ধরনের মানসিক ও মনস্তাত্ত্বিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠে নিজের আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার ক্ষেত্রে তার ছয় সন্তান—ম্যাডক্স, প্যাক্স, জাহারা, শাইলো, নক্স ও ভিভিয়েন তাকে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত করেছে। সন্তানরা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর তাকে নতুন করে নিজের স্বাধীন জীবন উপভোগ করার ও বিশ্বভ্রমণসহ বিভিন্ন সৃজনশীল কাজে যুক্ত হওয়ার জন্য উৎসাহিত করছে।
বিচ্ছেদের পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী সময়ে নিজের পেশাগত জীবনের পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে এই অভিনেত্রী জানান, বিবাহবিচ্ছেদের আগে তিনি পরিচালনা এবং আন্তর্জাতিক সমাজসেবামূলক কার্যক্রমে বেশি মনোযোগী হয়েছিলেন, যার কারণে অভিনয় থেকে প্রায় দূরে সরে গিয়েছিলেন। তবে বিচ্ছেদের পর পারিবারিক পরিস্থিতি, সন্তানদের পর্যাপ্ত সময় দেওয়া এবং আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়গুলো বিবেচনা করে তিনি আবারও নিয়মিত অভিনয়ে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।
এদিকে, দীর্ঘস্থায়ী এই বিচ্ছেদ প্রক্রিয়ার প্রভাব পড়েছে জোলি ও পিটের সন্তানদের ওপর। পারিবারিক সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে, বর্তমানে ব্র্যাড পিটের সঙ্গে সন্তানদের যোগাযোগ নেই বললেই চলে। সন্তানদের মধ্যে বেশ কয়েকজন ইতোমধ্যে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নিজেদের নামের শেষ অংশ থেকে বাবার পদবি ‘পিট’ বাদ দিয়েছেন। সন্তানদের এমন সিদ্ধান্ত ব্র্যাড পিটকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করলেও তিনি ভবিষ্যতে সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়ে আশাবাদী বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, এই পারিবারিক দূরত্ব সৃষ্টির পেছনে জোলি এবং পিটের ঘনিষ্ঠজনদের মধ্যে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। ব্র্যাড পিটের ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, জোলি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সন্তানদের বাবার কাছ থেকে দূরে রাখছেন। তবে জোলির ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, সন্তানরা এখন প্রাপ্তবয়স্ক এবং অতীতের পারিবারিক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ও মানসিক ট্রমার কারণেই তারা নিজস্ব সিদ্ধান্তে বাবার কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রাখার পথ বেছে নিয়েছে।