আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের সঙ্গে পরবর্তী ধাপের শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে পূর্বপরিকল্পিত সুইজারল্যান্ড সফর বাতিল করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে সফর বাতিলের এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। মূলত আলোচনার কারিগরি ও কৌশলগত প্রস্তুতির ক্ষেত্রে কিছু অমীমাংসিত জটিলতা তৈরি হওয়ায় শেষ মুহূর্তে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। মার্কিন প্রশাসন এই আলোচনা দ্রুত শুরু করতে আগ্রহী হলেও উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে আপাতত ওয়াশিংটনকে তাদের পরিকল্পনা স্থগিত করতে হচ্ছে।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আজ রাতেই মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা ছিল। তবে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক এই কূটনৈতিক আলোচনার প্রাথমিক লজিস্টিকস বা কৌশলগত পরিকল্পনাগুলো এখনো চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি। এর আগে গত বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে জেডি ভ্যান্স নিজেই সুইজারল্যান্ড ভ্রমণের ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেছিলেন। সে সময় তিনি জানিয়েছিলেন, ইরানের সঙ্গে একটি টেকসই চুক্তি চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে চলতি সপ্তাহান্তেই কারিগরি আলোচনা শুরু হতে পারে এবং মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিতে তিনি ব্যক্তিগতভাবে প্রস্তুত রয়েছেন।
মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই ধরনের উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক আলোচনার লজিস্টিকস বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি সবসময়ই অত্যন্ত জটিল এবং এর গতিপ্রকৃতি সহজে অনুমান করা যায় না। প্রথম সুযোগেই সুইজারল্যান্ডে যাওয়ার জন্য মার্কিন প্রতিনিধিদল সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকলেও কারিগরি পরিকল্পনা চূড়ান্ত না হওয়ায় এই মুহূর্তে যাত্রা করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে যুক্তরাষ্ট্র যত দ্রুত সম্ভব এই কারিগরি আলোচনা শুরু করতে আগ্রহী এবং পরবর্তী পদক্ষেপ বা নতুন সময়সূচি নির্ধারণ মাত্রই তা আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে অবহিত করা হবে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এই শান্তি আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের মধ্যে পরমাণু কর্মসূচি, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে যে অচলাবস্থা চলছে, তা নিরসনের অংশ হিসেবেই এই সুইজারল্যান্ড বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে লজিস্টিকস ও এজেন্ডা নির্ধারণের জটিলতায় দুই দেশের মধ্যকার আলোচনা থমকে গিয়েছিল।
সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রশাসনের নীতি ও মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক কূটনৈতিক অবস্থানের ধারাবাহিকতায় এই আলোচনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছিল। বিশেষ করে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদমর্যাদার একজন শীর্ষ নেতার সরাসরি অংশগ্রহণ এই প্রক্রিয়ার গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দেয়। শেষ মুহূর্তে হোয়াইট হাউসের এই সফর স্থগিতের ঘোষণা চলমান শান্তি প্রক্রিয়ায় কোনো দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে কি না, কিংবা আলোচনার মূল এজেন্ডাগুলোতে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন কোনো মতদ্বৈধতা তৈরি হয়েছে কি না—তা নিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে নানামুখী মূল্যায়ন ও পর্যবেক্ষণ শুরু হয়েছে। তবে ওয়াশিংটন বিষয়টিকে বিশদ কোনো রাজনৈতিক সংকট হিসেবে না দেখিয়ে কেবলই কৌশলগত ও কারিগরি জটিলতা হিসেবে উল্লেখ করেছে।